আম আদমি পার্টির অন্দরে আছড়ে পড়া বড়সড় রাজনৈতিক সুনামি সামলাতে এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধানের দ্বারস্থ হচ্ছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। আগামী ৫ মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন তিনি। ইস্যু একটাই— রাঘব চাড্ডা-সহ আপের সাত হেভিওয়েট রাজ্যসভা সাংসদের বিজেপিতে যোগদান। ভগবন্ত মানের দাবি, এই দলবদল সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানাতে চলেছেন যাতে রাঘবদের এই পদক্ষেপ রুখে দিয়ে তাঁদের পুনরায় আপের আঙিনায় ‘ফিরিয়ে দেওয়া’ হয়। যদিও রাজ্যসভার ওয়েবসাইট ইতিমিধ্যেই রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল এবং হরভজন সিংদের নামের পাশে ‘বিজেপি সাংসদ’ তকমা সেঁটে দিয়েছে, যা মানের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গত সপ্তাহেই আম আদমি পার্টির অন্যতম মুখ রাঘব চাড্ডা তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পদ্মশিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তাঁর সঙ্গেই আপ ছেড়েছেন স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানির মতো দাপুটে নেতারা।
রাঘবের অভিযোগ, যে আপ-কে তিনি নিজের রক্ত-ঘাম দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন, সেই দল এখন পুরোপুরি আদর্শচ্যুত। ব্যক্তিগত লাভের জন্য দল কাজ করছে দাবি করে তিনি দেশের সেবায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে, আপের পক্ষ থেকে সঞ্জয় সিং কড়া ভাষায় রাঘবকে আক্রমণ করে বলেছেন, যে দল তাঁকে সবরকম সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান দিয়েছিল, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে রাঘব শেষ পর্যন্ত বিজেপির কোলেই আশ্রয় নিলেন।
এই মহাসংকট কাটাতে দিল্লির একাধিক বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে গেলেও, ভগবন্ত মান একাই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক এই ‘অঘটন’ রুখতে শেষ চেষ্টা করতে চাইছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে আদর্শচ্যুতির অভিযোগ আর অন্যদিকে বিশ্বাসঘাতকতার পাল্টা তোপ— সব মিলিয়ে আপ বনাম বিজেপির এই লড়াই এখন চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দিল্লির তখত থেকে পাঞ্জাবের রাজনীতি, এই সাত সাংসদের দলবদল আগামী দিনে কোন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন