কলকাতা ও ঢাকা: কাঁটাতারের বেড়া কি তবে শুধুই মানচিত্রে? এপার বাংলার ভোটের উত্তাপ এবার নাকি সরাসরি আছড়ে পড়ছে পদ্মাপাড়েও! নিজেদের দেশের নির্বাচন মিটে যাওয়ার মাত্র দু’মাসের মাথায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে উত্তরের যশোর - সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজনৈতিক ব্যাটল ফিল্ড’!
বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাকর্মী দেবদাস কর্মকারের মতে, দুই বাংলার সীমান্তটা অনেকটা আপেক্ষিক। তিনি বলেন, “আমাদের প্রচুর আত্মীয় পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে আছেন। তাই, ওখানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আমাদের জন্য খুব জরুরি।” পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুখে দাঁড়ানোকে ওপার বাংলার একাংশ ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন বলে জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতা ও বিতর্ক নিয়ে রীতিমতো স্তম্ভিত ঢাকার পড়ুয়ারা! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রেজওয়ানা আলমের সাফ কথা, “এভাবে কারও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়? আমাদের দেশে এমনটা হলে...!” সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ওপার বাংলার তরুণ প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি রাজনৈতিক মোড় লক্ষ্য করছে!
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শাব্বির আহমেদ মনে করেন, ওপার বাংলার মানুষ পশ্চিমবঙ্গে সবসময় একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের শাসন দেখতে চায়। তিনি জানান, তিস্তা জলবণ্টন ইস্যু বাদ দিলে ওপার বাংলার মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ‘বড় আপা’ বা অকৃত্রিম বন্ধু।
যশোরের ব্যবসায়ীদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা থাকলে দু’দেশের বাণিজ্যে সুবিধা হয়। গৃহবধূ রূপালী ইসলামের সহজ যুক্তি, উন্নয়ন বা বেকারত্বের ইস্যু সব দেশেই থাকে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ যেভাবে চলছে, তাতে তাঁরা খুশি।
এক কথায়, এপার বাংলার নির্বাচনী ফল কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন ওপার বাংলায় চায়ের কাপে তুফান উঠছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বর্তমান সরকারের প্রত্যাবর্তন - দুই বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন