উত্তরপ্রদেশের পুলিশের বরখাস্ত হওয়া এক কনস্টেবলের অপরাধের কাহিনী হার মানাবে যে কোনও থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। নিজের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক ফৌজদারি মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে নিজেকেই 'মৃত' প্রমাণ করার এক হাড়হিম করা কৌশল নিয়েছিলেন প্রাক্তন কনস্টেবল রাজবীর সিং। তদন্তকারীদের দাবি, আইনত নিজেকে মৃত প্রমাণ করার অশুভ লক্ষ্য নিয়ে রাজবীর এক নিরপরাধ ভিখারিকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেন। গত ১২ মার্চ হাথরস রোড হল্টের কাছে রেললাইনের ধার থেকে সেই আধপোড়া দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, দেহটি শনাক্ত করতে রাজবীর ঘটনাস্থলে কৌশলে নিজের পরিচয়পত্র ফেলে এসেছিলেন, যাতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে মৃত ব্যক্তিটি আসলে রাজবীর সিং নিজে।
শুরুতে ঘটনাটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও জিআরপি-র গোয়েন্দারা দ্রুত আসল রহস্য উন্মোচন করেন। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল মৈনপুর জেলার কিশনা এলাকা থেকে অভিযুক্ত রাজবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাথরসের স্টেশন-ইন-চার্জ সুয়াশ সিং জানিয়েছেন, রাজবীরের অপরাধ করার প্রবৃত্তি অত্যন্ত প্রবল। অপহরণ, হত্যা, ডাকাতি ও প্রতারণার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে ফিরোজাবাদ, আলিগড়, মোরাদাবাদ থেকে শুরু করে মাইনপুরি পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। দীর্ঘদিনের এই আইনি জালে হাঁপিয়ে উঠেই সম্ভবত নিজেকে মৃত ঘোষণা করে সব ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
পুলিশ রাজবীরের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এই ঠান্ডা মাথার খুনি এবং আইনের জাল থেকে পালানোর পরিকল্পনাকারী রাজবীরের কার্যকলাপ দেখে তাজ্জব দুঁদে তদন্তকারীরাও। একজন প্রাক্তন পুলিশকর্মী হয়ে কীভাবে তিনি এমন নৃশংস পথ বেছে নিলেন, এখন তা নিয়ে চলছে আরও গভীর জিজ্ঞাসাবাদ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন