কলকাতা: ভোটের উত্তপ্ত আবহে এবার বঙ্গবাসীকে বড় বার্তা দিলেন নয়া রাজ্যপাল আর এন রবি। নববর্ষের সকালে কালীঘাটে পুজো দেওয়ার পর লোকভবনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যপাল সরাসরি ‘পরিবর্তনের অংশ হওয়ার’ আহ্বান জানালেন! বাংলার ‘হারানো গৌরব’ পুনরুদ্ধারের সঙ্কল্প নেওয়ার কথা বলে তিনি যে আসলে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকেই আঙুল তুললেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
বুধবার লোকভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি বাংলার আর্থিক অবনতির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশকে ভারতের জিডিপিতে বাংলার অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি। যা এখন নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ভারতের মাত্র চারটি রাজ্যের মাথাপিছু আয় বাংলার চেয়ে বেশি ছিল। আজ ১৫টি রাজ্য বাংলার থেকে এগিয়ে। তাছাড়া, দেশে ৫.৫ কোটির বেশি এমএসএমই থাকলেও বাংলায় নথিভুক্ত এমন সংস্থা মাত্র ৩ লক্ষ।
রাজ্যপালের প্রশ্ন, "আমরা কোথা থেকে কোন জায়গায় নেমে এসেছি? ২০২৬ সালের পয়লা বৈশাখ হোক সঙ্কল্পের দিন।" বাংলার তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, "বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের সঙ্কল্প নিতে হবে। আপনারা পজিটিভ হওয়ার সংকল্প নিন, পরিবর্তনের অংশ হওয়ার সঙ্কল্প নিন। এই পরিবর্তন স্বর্গ থেকে নেমে আসবে না। এটা আমাদের ভিতর থেকেই আসতে হবে।" বাংলাকে মা দুর্গার ভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ এগোলে বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না।
রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, "এই রাজ্যপাল বাংলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। হিন্দিভাষীদের হাত ধরে বাংলা বদলাবে? আগে বাংলার কবিতা, থিয়েটার এবং সাহিত্য জানুন। রাজ্যপাল যেখান থেকে আসছেন, সেখানকার একজন কবি বা সাহিত্যিকের নাম উনি বলতে পারবেন?"

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন