নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক অশান্তি এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার জেরে শেষ পর্যন্ত কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন, যার পরই তড়িঘড়ি রাজ্যে যেকোনো ধরণের জমায়েত বন্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। কলকাতার সিইও দপ্তরের সামনে ফর্ম-৬ সংক্রান্ত দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের ব্যাপক বচসা বাধে, যা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার মালদহে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসআইআর-এর কাজে দায়িত্বরত সাতজন বিচারককে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দায় ঠেলেন কমিশনের দিকে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে, তাই এই ধরণের ঘটনার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কমিশনও বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি; তারা গোটা ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ বা ডিজি-র কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে।
রাজ্যের এই অস্থিরতা এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হেনস্থার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৃহস্পতিবারের বিশেষ বৈঠকের পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শান্তি বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে কমিশনের এই কঠোর বার্তা রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন