Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

প্রতি ট্যাঙ্কারে ২০ লক্ষ ডলার! হরমুজ প্রণালীতে এবার কি ইরানের ‘টোল ট্যাক্স’? বিপাকে ভারতসহ বিশ্ব অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রতি ট্যাঙ্কারে ২০ লক্ষ ডলার! হরমুজ প্রণালীতে এবার কি ইরানের ‘টোল ট্যাক্স’? বিপাকে ভারতসহ বিশ্ব অর্থনীতি
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার এক নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের দামামা। ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরান এবার তাদের তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-কে। সূত্রের খবর, এই পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর প্রায় ২০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ কোটি টাকারও বেশি) ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল চাপানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান। ইরানের এই ‘দাদাগিরি’র জেরে ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশের জ্বালানি বাজারে বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে।


বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই জলপথে তাদের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে হবে। বর্তমানে ইরানের সামরিক তৎপরতার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুয়েজ খালের ধাঁচেই ইরান এই পথকে তাদের স্থায়ী উপার্জনের উৎস বানাতে চাইছে। যদি প্রতি ট্যাঙ্কারে ২০ লক্ষ ডলার নেওয়া হয়, তবে ইরানের মাসিক আয় দাঁড়াতে পারে ৬০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার।


জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে একতরফাভাবে টোল আদায় করতে পারে না। আমেরিকা ইতিমিধ্যেই ইরানের এই প্রস্তাবকে “অবৈধ, বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে তকমা দিয়েছে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলিও মুক্ত নৌচলাচলের পক্ষে সওয়াল করেছে। তবে ইরান অনড়। তাদের দাবি, শুধুমাত্র “অ-শত্রুভাবাপন্ন” জাহাজগুলিকেই তাদের শর্তসাপেক্ষে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। এমনকি কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ অনানুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে অর্থ প্রদান করে ‘নিরাপদ যাত্রা’ নিশ্চিত করছে।


ভারত তার অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে, যার সিংহভাগই আসে এই হরমুজ প্রণালী হয়ে। যদি ইরান এখানে টোল আদায় শুরু করে বা পথ আটকে দেয়, তবে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এই পরিস্থিতি চরম মুদ্রাস্ফীতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইরান কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে চাপে ফেলে তাদের এই ‘টোল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক লড়াইয়ে।

বিষয় : US Iran war Iran to put toll in hormuz

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


প্রতি ট্যাঙ্কারে ২০ লক্ষ ডলার! হরমুজ প্রণালীতে এবার কি ইরানের ‘টোল ট্যাক্স’? বিপাকে ভারতসহ বিশ্ব অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার এক নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের দামামা। ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরান এবার তাদের তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-কে। সূত্রের খবর, এই পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর প্রায় ২০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ কোটি টাকারও বেশি) ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল চাপানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান। ইরানের এই ‘দাদাগিরি’র জেরে ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশের জ্বালানি বাজারে বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে।বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই জলপথে তাদের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে হবে। বর্তমানে ইরানের সামরিক তৎপরতার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুয়েজ খালের ধাঁচেই ইরান এই পথকে তাদের স্থায়ী উপার্জনের উৎস বানাতে চাইছে। যদি প্রতি ট্যাঙ্কারে ২০ লক্ষ ডলার নেওয়া হয়, তবে ইরানের মাসিক আয় দাঁড়াতে পারে ৬০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার।জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে একতরফাভাবে টোল আদায় করতে পারে না। আমেরিকা ইতিমিধ্যেই ইরানের এই প্রস্তাবকে “অবৈধ, বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে তকমা দিয়েছে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলিও মুক্ত নৌচলাচলের পক্ষে সওয়াল করেছে। তবে ইরান অনড়। তাদের দাবি, শুধুমাত্র “অ-শত্রুভাবাপন্ন” জাহাজগুলিকেই তাদের শর্তসাপেক্ষে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। এমনকি কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ অনানুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে অর্থ প্রদান করে ‘নিরাপদ যাত্রা’ নিশ্চিত করছে।ভারত তার অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে, যার সিংহভাগই আসে এই হরমুজ প্রণালী হয়ে। যদি ইরান এখানে টোল আদায় শুরু করে বা পথ আটকে দেয়, তবে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এই পরিস্থিতি চরম মুদ্রাস্ফীতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইরান কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে চাপে ফেলে তাদের এই ‘টোল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক লড়াইয়ে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার