বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে এবার তাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বা ‘লাইফলাইন’ খ্যাত হরমুজ প্রণালীকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই কঠোর অবরোধ। ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের এই ‘প্ল্যান বি’ প্রয়োগের সিদ্ধান্তে প্রমাদ গুনছে আন্তর্জাতিক মহল।
বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে যাতে তেল বা কোনো জাহাজ বাইরে বেরোতে না পারে, তার জন্য চারটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবরোধ তৈরি করছে মার্কিন সেনা। এই জায়গাগুলি হলো— খার্গ দ্বীপ, জাস্ক টার্মিনাল, বন্দর আব্বাস এবং বন্দর খুমেইনি। এর ফলে ইরানের নিজস্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অবরোধ নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হবে। অর্থাৎ, যে সব জাহাজ সরাসরি ইরানের বন্দরে ঢোকার বা বেরোনোর চেষ্টা করবে, শুধুমাত্র সেগুলোকেই আটকানো হবে। তবে ইরানের বন্দরের সাথে সম্পর্ক না রেখে যারা এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না মার্কিন বাহিনী। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলো যাতে তাদের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে পারে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো সমাধানসূত্র ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। ইরান দাবি করেছে, আমেরিকা কেবল অজুহাত খুঁজছিল। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে তাদের অর্থব্যবস্থায় সরাসরি আঘাত করা জরুরি।
এই অবরোধ কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের যোগান মারাত্মকভাবে কমবে, যার ফলে তেলের দাম ফের হুহু করে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার, আমেরিকার এই চাপের মুখে ইরান পাল্টা কী রণকৌশল নেয়।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন