কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। শনিবার সকালে কলকাতায় বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ সম্বলিত ‘চার্জশিট’ পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিকেলেই তার পাল্টা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ‘মোটা ভাই, জবাব চাই’ — এই নাম দিয়ে ১৫ পৃষ্ঠার একটি পাল্টা চার্জশিট পেশ করে শাহের প্রতিটি অভিযোগকে নস্যাৎ করল শাসকশিবির।
তৃণমূলের পক্ষে ব্রাত্য বসু ও মহুয়া মৈত্ররা শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনা দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলের মতো অভিযোগগুলিকে নস্যাৎ করেন। ব্রাত্য বসু সাফ জানান, বিজেপি বাংলার মানুষের মনে ভয় ধরাতে চাইছে। তাঁর কথায়, “এসআইআর আপনাদের একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। আপনারা তৃণমূলের কফিনে পেরেক ঠুকতে চাইছেন। কিন্তু, আমরা সেই পেরেক উপড়ে নেব।”
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের ওবিসি তালিকা এবং জনবিন্যাস বদল নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তৃণমূলের ১৫ পৃষ্ঠার জবাবি নথিতে তার প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। মহুয়া মৈত্ররা প্রশ্ন তোলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের, তখন অনুপ্রবেশের দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপানো হচ্ছে কেন? তৃণমূলের দাবি, ভোটের মুখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কাল্পনিক অভিযোগগুলি আনছেন।
শনিবার দিনভর কলকাতার রাজনৈতিক ময়দান মূলত দুই শিবিরের এই ‘চার্জশিট’ যুদ্ধেই সরগরম ছিল। একদিকে অমিত শাহ যখন বিজেপি ক্ষমতায় এলে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিচ্ছেন, অন্যদিকে তৃণমূল ‘মোটা ভাই’ অর্থাৎ অমিত শাহের কাছেই হিসাব চাইছে যে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার পাওনা টাকা এবং উন্নয়ন নিয়ে কী পদক্ষেপ করেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দু-পক্ষই এখন এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন