ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের রক্তক্ষয়ী দিনগুলো এখন অতীত। অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামের বুকে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। আর সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একসময়ের দাপুটে মাওবাদী নেত্রী শোভা সিং সর্দার ওরফে চন্দনা সিং। দীর্ঘ ১৫ বছর জেল খাটার পর গত জুলাইয়ে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এখন বন্দুকের নল নয়, বরং গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে মুখিয়ে আছেন এই প্রাক্তন ‘বিপ্লবী’।
বেলপাহাড়ি থানার মাজুগোড়া গ্রামের বাসিন্দা শোভার জীবনকাহিনি কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১২-১৩ বছর বয়সে পরিস্থিতির চাপে পড়ে গ্রাম ছেড়েছিলেন। যুক্ত হয়েছিলেন মাওবাদী স্কোয়াডে। ২০১০ সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর দীর্ঘ দেড় দশক কাটাতে হয়েছে সংশোধনাগারে। ৩৩ বছর বয়সি শোভার আক্ষেপ, "জীবনের মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে ফেলেছি। তখন পড়াশোনা করতে পারিনি, স্বাভাবিক শৈশব পাইনি।"
কিন্তু জেল থেকে ফিরে তিনি দেখছেন এক বদলে যাওয়া জঙ্গলমহল। শোভার কথায়, আগে রাস্তাঘাট বা পানীয় জলের বালাই ছিল না, গ্রামগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন। এখন ছেলেমেয়েরা সাইকেলে চেপে স্কুলে যাচ্ছে, জঙ্গলমহলের পরিকাঠামো আমূল বদলেছে।
শোভার মা লক্ষ্মী সর্দার মহুল ফুল বিক্রি করে সংসার টানেন। চরম অভাবের মধ্যেও তাঁর অটুট আস্থা রাজ্য সরকারের ওপর। শোভার মতে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘খাদ্যসাথী’র মতো প্রকল্পগুলো জঙ্গলমহলের মহিলাদের স্বাবলম্বী করেছে। আগে যে মহিলাদের হাতে কোনো টাকা থাকত না, আজ তাঁরা সামান্য হলেও নিশ্চিত অর্থ পাচ্ছেন।
এখন শোভার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া নয়, বরং অতি সাধারণ। বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা আর মাথা গোঁজার মতো একটা নিরাপদ আস্তানা চান তিনি। সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, থাকার জন্য একটি ঘর এবং সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁর স্পষ্ট কথা, "এখন খোলা আকাশের নিচে শান্তিতে, সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চাই।"
বিপ্লবের পথ ছেড়ে উন্নয়নের পথে শোভার এই প্রত্যাবর্তন জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন