সন্দেশখালির দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন নেতা শেখ শাহজাহানের স্বস্তি মিলল না উচ্চ আদালতেও। সিবিআই-এর দায়ের করা মামলায় শাহজাহান ও তাঁর সঙ্গী আলমগীরের জামিনের আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন স্পষ্ট জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, তদন্তে যে সমস্ত নতুন তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হবে। পুরনো যুক্তিতে এখন জামিন মেলা সম্ভব নয়।
শাহজাহানের আইনজীবীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, এই মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ৮৬ জন। এছাড়া যার বয়ানের ভিত্তিতে শাহজাহানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই মাজেদা বিবিকেও চার্জশিটে অভিযুক্ত করেছে সিবিআই। এই কারণ দেখিয়ে পুনরায় শুনানি গ্রহণের দাবি জানানো হলেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি।
২০১৯ সালে সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মীকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে শেখ শাহজাহানের। হাইকোর্টের নির্দেশে পাঁচ বছর পর এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই এবং শাহজাহানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এছাড়াও ২০২২ সালের একটি খুনের মামলাতেও তাঁর নাম চার্জশিটে উঠেছিল।
২০২৪-এর শুরুতে রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে যাওয়া ইডি আধিকারিক ও আধাসেনা জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই শাহজাহানের একের পর এক কীর্তি সামনে আসতে শুরু করে। জমি দখল, ভেড়ির টাকা জালিয়াতি এবং স্থানীয় মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে উত্তাল হয় সন্দেশখালি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরবর্তীতে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল কংগ্রেস।
আপাতত শ্রীঘরই ঠিকানা হতে চলেছে সন্দেশখালির এই প্রাক্তন নেতার। সিবিআই-এর জালে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন