নয়াদিল্লি: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনিয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় ভারতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিতে টান পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট ও কালোবাজারি রুখতে ১৯৫৫ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ (Essential Commodities Act বা ECA) কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ৯ মার্চ থেকে জারি হওয়া এই কড়া নির্দেশিকায় রান্নার গ্যাস মজুতদারদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোনও অসাধু ব্যবসায়ী যাতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত করে দাম বাড়াতে না পারে, তাই ‘একা’র ৩ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে রান্নার গ্যাসের উৎপাদন, বিতরণ এবং ব্যবসা পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় অপরাধীদের জন্য কড়া পদক্ষেপের বন্দোবস্ত রয়েছে। যেমন - সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘন করে গ্যাস মজুত করলে অপরাধীর ৩ মাস থেকে ৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। পাশাপাশি, এই আইনে জরিমানার কোনও নির্দিষ্ট উর্ধ্বসীমা নেই। মজুত করা সিলিন্ডারের সংখ্যা এবং কালোবাজারির গুরুত্ব বুঝে বিচারক জরিমানার অঙ্ক ঠিক করবেন। প্রসঙ্গত, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে জেলাশাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকরা যেকোনও গুদাম বা বাড়ি থেকে অবৈধ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত যদি কোনও গ্যাস-ডিলার হন, তাহলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি তাঁর ব্যবসার লাইসেন্সও চিরতরে বাতিল হবে এবং তাঁকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করবে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা জারির পর থেকেই রাজ্যগুলির এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) এবং স্থানীয় পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে গ্যাস পৌঁছে দিতে এবং সামরিক বা জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতেই সাত দশকের পুরনো এই আইনকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে কেন্দ্র।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন