রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পেশ করতে চায় তৃণমূল। কিন্তু সেই সুযোগ মিলছে না। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। গত শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির সফরের সময় যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট-সংঘাত কি তারই জের? উঠছে প্রশ্ন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে সময় চেয়ে প্রথম চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দিতে পারছেন না।
দমে না গিয়ে ফের দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১২ থেকে ১৫ জন প্রতিনিধির একটি দলের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আবেদন ঝুলেই রয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে রাইসিনা হিলসে তৃতীয় চিঠি পাঠাতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে বাংলায় এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে যেখানে তাঁর মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, নিরাপত্তার কারণে শেষ মুহূর্তে সেই স্থান পরিবর্তন করে গোঁসাইপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে খোদ রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন রাজ্য সরকার তাঁকে নির্দিষ্ট স্থানে সভা করতে দিল না? এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তিনি বলেছিলেন, “হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি অভিযোগ তোলে যে, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতিকে ‘অপমান’ করেছেন। এবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া সেই বিবাদকেই কি আরও উসকে দিচ্ছে? জল্পনা তুঙ্গে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন