পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত সংঘাত এবার চরম আকার নিল। শুক্রবার কাবুল ও কান্দাহার-সহ আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। তালিবান সরকারের দাবি, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু নিরীহ মানুষ, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এই ঘটনার পর পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান প্রশাসন।
তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাবুল, কান্দাহার এবং পখতিকা প্রদেশে পাক যুদ্ধবিমান থেকে বেছে বেছে নিরীহ নাগরিকদের নিশানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদীদের ডেরা ধ্বংস করতেই এই এয়ারস্ট্রাইক চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো বারবার পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, আর তালিবান সরকার তাদের মদত দিচ্ছে।
দুই দেশের এই সংঘাত গত মাস থেকেই তীব্র হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তালিবান ফৌজ পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালিয়ে ১২টি পাকিস্তানি সেনাপোস্ট দখল করে নেয় বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে পাকিস্তানের প্রায় ৫৫ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। বুধবার পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ৬৪১ জন তালিবান সদস্য নিহত এবং ৮৫৫ জন আহত হয়েছে। আজকের বিমান হামলা মূলত সেই সংঘাতেরই এক ভয়ংকর ধারাবাহিকতা।
এই মূহূর্তে গোটা আফগানিস্তান জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তালিবান সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের জবাব তারা রণক্ষেত্রেই দেবে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এক বড়সড় যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন