Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

রেস্তোরার হেঁসেল থেকে মহাশ্মশান—সর্বত্র রান্নার গ্যাস সংকট, যুদ্ধের আঁচে চাপে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬
রেস্তোরার হেঁসেল থেকে মহাশ্মশান—সর্বত্র রান্নার গ্যাস সংকট, যুদ্ধের আঁচে চাপে ভারত
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় দেশের বিভিন্ন শহরে হোটেল-রেস্তরাঁ, বেকারি এমনকি শ্মশান পরিষেবাও বিপাকে পড়েছে। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।


কর্নাটকে হোটেল শিল্পে ধাক্কা: কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের হোটেল ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১০ মার্চের পর থেকেই হোটেল চালানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনের সভাপতি পিসি রাও বলেন, বেঙ্গালুরুর প্রায় ১০ শতাংশ হোটেল সোমবার বাণিজ্যিক এলপিজি পেয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলপিজির দাম যেমন হঠাৎ বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


মহারাষ্ট্রে শ্মশান পরিষেবাও সংকটে: মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মুম্বই ও পুণে সহ বিভিন্ন শহরে এলপিজি ডিলাররা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

পুণে পৌরসভার কমিশনার নাভাল কিশোর রাম জানিয়েছেন, শহরের ২৭টি শ্মশানের মধ্যে ১৮টিই এলপিজির উপর নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘাটতির কারণে সেগুলির পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতে পারে।

পুণের বৃহত্তম শ্মশান ‘বৈকুণ্ঠ ধাম’-এ ইতিমধ্যেই গ্যাসচালিত দাহ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বৈদ্যুতিক চুল্লির উপর নির্ভর করেই দাহকার্য চলছে। প্রশাসনের দাবি, হাতে মাত্র কয়েকটি দাহকার্যের মতো গ্যাস মজুত ছিল।


পশ্চিমবঙ্গে রেস্তরাঁ ও বেকারিতে উদ্বেগ: কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁ ও বেকারি ইতিমধ্যেই সমস্যার মুখে পড়েছে।

কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘সিরাজ’-এর এমডি ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত গ্যাস মিললেও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি। গ্যাস না পেলে কীভাবে রান্না করব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কয়লা বা কাঠের ব্যবহার ভাবতে হবে।”

পার্ক সার্কাসের ‘আরসালান’ রেস্তরাঁর এক কর্মী জানিয়েছেন, হলদিয়া, বজবজ ও কল্যাণী—এই তিনটি উৎস থেকেই কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস আসে। কিন্তু সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গড়িয়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। মিষ্টির দোকানগুলিও একই সমস্যায় পড়েছে। বহু জায়গায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।


গৃহস্থের গ্যাসকে অগ্রাধিকার

কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত: গৃহস্থের রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাইপলাইন গ্যাস ও সিএনজি পরিবহণ ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্র।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।


যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে: বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের হোটেল শিল্প, খাদ্য ব্যবসা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় দেশের বিভিন্ন শহরে হোটেল-রেস্তরাঁ, বেকারি এমনকি শ্মশান পরিষেবাও বিপাকে পড়েছে। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

কর্নাটকে হোটেল শিল্পে ধাক্কা: কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের হোটেল ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১০ মার্চের পর থেকেই হোটেল চালানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনের সভাপতি পিসি রাও বলেন, বেঙ্গালুরুর প্রায় ১০ শতাংশ হোটেল সোমবার বাণিজ্যিক এলপিজি পেয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলপিজির দাম যেমন হঠাৎ বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মহারাষ্ট্রে শ্মশান পরিষেবাও সংকটে: মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মুম্বই ও পুণে সহ বিভিন্ন শহরে এলপিজি ডিলাররা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

পুণে পৌরসভার কমিশনার নাভাল কিশোর রাম জানিয়েছেন, শহরের ২৭টি শ্মশানের মধ্যে ১৮টিই এলপিজির উপর নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘাটতির কারণে সেগুলির পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতে পারে।

পুণের বৃহত্তম শ্মশান ‘বৈকুণ্ঠ ধাম’-এ ইতিমধ্যেই গ্যাসচালিত দাহ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বৈদ্যুতিক চুল্লির উপর নির্ভর করেই দাহকার্য চলছে। প্রশাসনের দাবি, হাতে মাত্র কয়েকটি দাহকার্যের মতো গ্যাস মজুত ছিল।


পশ্চিমবঙ্গে রেস্তরাঁ ও বেকারিতে উদ্বেগ: কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁ ও বেকারি ইতিমধ্যেই সমস্যার মুখে পড়েছে।

কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘সিরাজ’-এর এমডি ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত গ্যাস মিললেও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি। গ্যাস না পেলে কীভাবে রান্না করব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কয়লা বা কাঠের ব্যবহার ভাবতে হবে।”

পার্ক সার্কাসের ‘আরসালান’ রেস্তরাঁর এক কর্মী জানিয়েছেন, হলদিয়া, বজবজ ও কল্যাণী—এই তিনটি উৎস থেকেই কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস আসে। কিন্তু সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গড়িয়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। মিষ্টির দোকানগুলিও একই সমস্যায় পড়েছে। বহু জায়গায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।

গৃহস্থের গ্যাসকে অগ্রাধিকার

কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত: গৃহস্থের রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাইপলাইন গ্যাস ও সিএনজি পরিবহণ ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্র।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে: বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের হোটেল শিল্প, খাদ্য ব্যবসা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

বিষয় : #India #kolkata #LPGCRISIS #GASSHORTAGE #COMMERCIALLPG

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


রেস্তোরার হেঁসেল থেকে মহাশ্মশান—সর্বত্র রান্নার গ্যাস সংকট, যুদ্ধের আঁচে চাপে ভারত

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় দেশের বিভিন্ন শহরে হোটেল-রেস্তরাঁ, বেকারি এমনকি শ্মশান পরিষেবাও বিপাকে পড়েছে। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।কর্নাটকে হোটেল শিল্পে ধাক্কা: কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের হোটেল ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১০ মার্চের পর থেকেই হোটেল চালানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংগঠনের সভাপতি পিসি রাও বলেন, বেঙ্গালুরুর প্রায় ১০ শতাংশ হোটেল সোমবার বাণিজ্যিক এলপিজি পেয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলপিজির দাম যেমন হঠাৎ বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।মহারাষ্ট্রে শ্মশান পরিষেবাও সংকটে: মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মুম্বই ও পুণে সহ বিভিন্ন শহরে এলপিজি ডিলাররা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।পুণে পৌরসভার কমিশনার নাভাল কিশোর রাম জানিয়েছেন, শহরের ২৭টি শ্মশানের মধ্যে ১৮টিই এলপিজির উপর নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘাটতির কারণে সেগুলির পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতে পারে।পুণের বৃহত্তম শ্মশান ‘বৈকুণ্ঠ ধাম’-এ ইতিমধ্যেই গ্যাসচালিত দাহ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বৈদ্যুতিক চুল্লির উপর নির্ভর করেই দাহকার্য চলছে। প্রশাসনের দাবি, হাতে মাত্র কয়েকটি দাহকার্যের মতো গ্যাস মজুত ছিল।পশ্চিমবঙ্গে রেস্তরাঁ ও বেকারিতে উদ্বেগ: কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁ ও বেকারি ইতিমধ্যেই সমস্যার মুখে পড়েছে।কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘সিরাজ’-এর এমডি ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত গ্যাস মিললেও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি। গ্যাস না পেলে কীভাবে রান্না করব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কয়লা বা কাঠের ব্যবহার ভাবতে হবে।”পার্ক সার্কাসের ‘আরসালান’ রেস্তরাঁর এক কর্মী জানিয়েছেন, হলদিয়া, বজবজ ও কল্যাণী—এই তিনটি উৎস থেকেই কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস আসে। কিন্তু সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।গড়িয়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। মিষ্টির দোকানগুলিও একই সমস্যায় পড়েছে। বহু জায়গায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।গৃহস্থের গ্যাসকে অগ্রাধিকারকেন্দ্রীয় সরকার আপাতত: গৃহস্থের রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাইপলাইন গ্যাস ও সিএনজি পরিবহণ ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্র।এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে: বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের হোটেল শিল্প, খাদ্য ব্যবসা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় দেশের বিভিন্ন শহরে হোটেল-রেস্তরাঁ, বেকারি এমনকি শ্মশান পরিষেবাও বিপাকে পড়েছে। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।কর্নাটকে হোটেল শিল্পে ধাক্কা: কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের হোটেল ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১০ মার্চের পর থেকেই হোটেল চালানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংগঠনের সভাপতি পিসি রাও বলেন, বেঙ্গালুরুর প্রায় ১০ শতাংশ হোটেল সোমবার বাণিজ্যিক এলপিজি পেয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলপিজির দাম যেমন হঠাৎ বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।মহারাষ্ট্রে শ্মশান পরিষেবাও সংকটে: মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মুম্বই ও পুণে সহ বিভিন্ন শহরে এলপিজি ডিলাররা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।পুণে পৌরসভার কমিশনার নাভাল কিশোর রাম জানিয়েছেন, শহরের ২৭টি শ্মশানের মধ্যে ১৮টিই এলপিজির উপর নির্ভরশীল। গ্যাসের ঘাটতির কারণে সেগুলির পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতে পারে।পুণের বৃহত্তম শ্মশান ‘বৈকুণ্ঠ ধাম’-এ ইতিমধ্যেই গ্যাসচালিত দাহ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বৈদ্যুতিক চুল্লির উপর নির্ভর করেই দাহকার্য চলছে। প্রশাসনের দাবি, হাতে মাত্র কয়েকটি দাহকার্যের মতো গ্যাস মজুত ছিল।পশ্চিমবঙ্গে রেস্তরাঁ ও বেকারিতে উদ্বেগ: কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁ ও বেকারি ইতিমধ্যেই সমস্যার মুখে পড়েছে।কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘সিরাজ’-এর এমডি ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত গ্যাস মিললেও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি। গ্যাস না পেলে কীভাবে রান্না করব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কয়লা বা কাঠের ব্যবহার ভাবতে হবে।”পার্ক সার্কাসের ‘আরসালান’ রেস্তরাঁর এক কর্মী জানিয়েছেন, হলদিয়া, বজবজ ও কল্যাণী—এই তিনটি উৎস থেকেই কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস আসে। কিন্তু সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।গড়িয়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। মিষ্টির দোকানগুলিও একই সমস্যায় পড়েছে। বহু জায়গায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।গৃহস্থের গ্যাসকে অগ্রাধিকারকেন্দ্রীয় সরকার আপাতত: গৃহস্থের রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাইপলাইন গ্যাস ও সিএনজি পরিবহণ ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্র।এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে: বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের হোটেল শিল্প, খাদ্য ব্যবসা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার