কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়।
বাংলায় বক্তব্য শুরু করে কমিশনের প্রতিনিধি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে আমার শুভেচ্ছা।” তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং নতুন ভোটারদের হাতে ইপিক কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা অত্যন্ত বড়। তুলনা করে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং উরুগুয়ের মতো দেশের জনসংখ্যার কাছাকাছি।
বাংলার ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ভারতের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা, আর জাতীয় গান বন্দেমাতরম বাংলার মাটিরই সন্তান বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা। তাই পশ্চিমবঙ্গ গর্বের মাটি।
তিনি বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “হিংসা বা ভয়ের পরিবেশের বাইরে এসে সবাই গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিন এবং অবশ্যই ভোট দিতে আসুন।”
ভোটের তথ্য
নির্বাচন কমিশন জানায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২১০টি সাধারণ আসন এবং ৬৮টি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত।
ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ করতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। দেশের ১২টি রাজ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যাতে কোনও বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।
ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—
যুব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কলেজে কলেজে প্রচার চালানো হবে।
প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য সব ভোটকেন্দ্র গ্রাউন্ড ফ্লোরে রাখা হবে।
প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে র্যাম্প ও স্বেচ্ছাসেবক।
৮৩ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের জন্য বাড়িতে ভোট দেওয়ার সুবিধা থাকবে।
প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা
ভোটকে আরও স্বচ্ছ করতে কমিশন জানিয়েছে—
ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে।
ভিড় কম রাখতে একটি বুথে ১২০০ জনের বেশি ভোটার রাখা হবে না।
ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত সব তথ্য অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
আগে যেখানে ৪০টি অ্যাপ ছিল, এবার একটি অ্যাপেই সব তথ্য পাওয়া যাবে।
প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার প্রকাশ করা হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন আরও কয়েকটি নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে—
পোস্টাল ব্যালটের গণনা ইভিএম গণনার দুই রাউন্ড আগে শেষ করতে হবে।
ভোট শেষ হওয়ার পরে ফর্মে যে ভোটের সংখ্যা থাকবে, গণনার সঙ্গে না মিললে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
কোনও প্রার্থী চাইলে ইভিএম পুনরায় পরীক্ষা করার আবেদন করতে পারবেন।
কড়া নির্দেশ কমিশনের
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর হয়ে কাজ করা যাবে না।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমস্ত পর্যবেক্ষকদের (Observer) ফোন নম্বর প্রকাশ্যে আনা হবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং হিংসামুক্ত নির্বাচন করতেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন