কলকাতা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফর কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতে জড়িয়েছে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’বার অভিযোগ করেছেন, বাংলার তৃণমূল সরকার দেশের সর্বোচ্চ নাগরিককে অপমান করেছে। রবিবার সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ‘পুরানো ছবি’ অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধরনামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বীরবাহা হাঁসদা ও জুন মালিয়া একটি ছবি প্রদর্শন করেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চেয়ারে বসে আছেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছবি দেখিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, "দেখুন ছবিটা। সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। কে কাকে অপমান করছেন?"
একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই ছবি বিগ স্ক্রিনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই ছবিটি খোদ সরকারের ‘প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো’ (PIB) পোস্ট করেছিল। অভিষেক বলেন, "রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে, কিন্তু বিজেপি সেই পদটাকেও ছাড়ল না। তারা বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসে রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করতে না গিয়ে অপমান করেছেন। অথচ, এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর মোদীজি বসে! এর থেকে বড় অপমান আর কী হতে পারে?"
অভিষেক আরও মনে করিয়ে দেন, রাম মন্দির উদ্বোধন বা নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনেও রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি কার সঙ্গে দেখা করবেন, তা ঠিক করে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়।
শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির একটি কর্মসূচির স্থান বদল নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। রবিবারের মধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ করার এই ইস্যু যে রাজ্য ও কেন্দ্রের লড়াইকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন