কলকাতা: ধর্মতলায় যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই তাঁরই সভার সামনে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হলেন একদল পার্শ্বশিক্ষক! শুক্রবার বিকেলে মেট্রো চ্যানেলের ধরনামঞ্চের ঠিক সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে আচমকা বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। এই ঘটনায় দৃশ্যতই বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই কড়া ভাষায় বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এসআইআর বা ভোটারতালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ধরন এবং তাতে লক্ষ-লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পার্শ্বশিক্ষকদের উপস্থিতি মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে সরব শিক্ষকদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এসব করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, এই বিক্ষোভ যদি দেখাতে হয়, তবে তা যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে দেখানো হয়। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ ছিল, “ওঁদের আস্তে আস্তে অন্য জায়গায় বসিয়ে দিন।”
বিক্ষোভকারী পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁদের স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করা হয়নি। তাঁদের দাবি, ২০০৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং আন্দোলনের মঞ্চে এসে স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তা পূরণ করতে হবে। গত বছর শিক্ষা দফতর থেকে বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব (প্রাথমিকে ২৮ হাজার ও উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা) নবান্নে পাঠানো হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। সেটি কার্যকর করতে হবে। সেইসঙ্গে, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের সদস্যদের চাকরির দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালতের অনুমতি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। বৃহস্পতিবার তাঁদের ‘কালীঘাট অভিযান’ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় আটকে গিয়েছিল। শুক্রবার সুযোগ বুঝে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ধরনামঞ্চকেই প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসাবে বেছে নেন তাঁরা। শিক্ষকদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে না পেলে তাঁদের বঞ্চনার কথা যথাস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারতালিকা নিয়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন ঘরোয়া এই শিক্ষক আন্দোলন শাসকদলের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই আন্দোলনকে ‘বিজেপির উস্কানি’ বলে অভিহিত করলেও, শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার জট কবে কাটবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন