নয়াদিল্লি: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কে আসবেন- এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা চলছিল সকাল থেকেই। সেই আবহেই তেহরান অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিল। পাকাপাকি উত্তরসূরি নির্বাচনের আগে দেশের অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ শাসকের দায়িত্ব দেওয়া হল আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফিকে।
আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি ইরানের সেমিনারি বা ‘হাওজা’ ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ধর্মগুরু। তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য।রএই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা তাঁকে ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছে রেখেছে দীর্ঘদিন।
খামেনেইয়ের স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। সাংবিধানিকভাবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরাফিকে।
কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ধর্মীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা অটুট থাকবে। ক্ষমতার কাঠামোয় কোনো শূন্যতা তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
খামেনেই প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল—বিশেষত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC), রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় পরিষদের মধ্যে।
আরাফিকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ—রধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব বজায় রাখা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার বার্তা, আন্তর্জাতিক মহলে ‘নিয়ন্ত্রিত রূপান্তর’-এর ইঙ্গিত।
চূড়ান্ত সুপ্রিম লিডার নির্বাচনে কারা আলোচনায় থাকবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তেহরানের অন্দরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের বৈঠক কবে হবে এবং প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
ইরান বর্তমানে আঞ্চলিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও কৌশলগত চাপে রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের রদবদল কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়—এর আন্তর্জাতিক প্রভাবও পড়তে পারে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন