মানামা: প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে একঘণ্টাও সময় নিল না তেহরান। শনিবার ভোরে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টা জবাব দিল খামেনেই প্রশাসন। বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দফতর লক্ষ্য করে বিধ্বংসী মিসাইল হামলা চালাল ইরান। প্রাথমিকভাবে আসা খবরে জানা গিয়েছে, মিসাইলের আঘাতে মার্কিন নৌবহরের সদর দফতর কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে।
বাহরিনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত এই মার্কিন ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই পশ্চিম এশিয়া, পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগরে মার্কিন টহলদারি ও নজরদারি পরিচালিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরান স্পষ্ট করে দিল যে তারাও সরাসরি যুদ্ধের পথেই হাঁটছে।
শুধু বাহরিন নয়, এদিন ইজরায়েলের দিকেও লক্ষ্য করে প্রায় ৩০-৩৫টি মিসাইল ছুঁড়েছে ইরান। এছাড়া, কাতারের রাজধানী দোহাতেও মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। দুবাইয়ের আকাশেও রহস্যময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। কুয়েত, জর্ডন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেও মার্কিন ঘাঁটি থাকায় সেই দেশগুলিতেও এখন চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ৬টি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক পরিকাঠামোই এখন ইরানের মূল লক্ষ্য।
তেহরানে হামলার পর ইরান জানিয়েছিল, এই আক্রমণের "ক্রশিং" জবাব দেওয়া হবে। বাহরিনের এই হামলা সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও ইরান প্রশাসন এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল এই পালটা হামলার পর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।
গোটা পশ্চিম এশিয়া এখন কার্যত মহাযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তাই, বিভিন্ন দেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন