সাগর: হাতে ছেলের একটি বাঁধানো ছবি, আর চোখে একরাশ জল। গত দেড় বছর ধরে এভাবেই হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাগরদ্বীপের কোম্পানি চরের বাসিন্দা মৃন্ময়ী প্রামাণিক। ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছেলে কৃষ্ণেন্দু প্রামাণিকের অপেক্ষায় আজও পথ চেয়ে বসে আছেন তিনি। থানা থেকে লালবাজার, এমনকি ভবানী ভবন— সব দরজায় কড়া নেড়েও কোনো দিশা না পেয়ে এবার আইনি সাহায্যের আশায় আদালত চত্বরে পা রেখেছেন এই অসহায় মা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে মৎস্যজীবী হিসেবে ট্রলারে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু। প্রথম দিকে ফোনে বাড়ির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। কিন্তু তারপর থেকেই হঠাৎ সব স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষ্ণেন্দুর আর কোনো খোঁজ পায়নি তাঁর পরিবার। সহকর্মী মৎস্যজীবীরা ফিরে এলেও ঘরে ফেরেননি কৃষ্ণেন্দু।
ছেলের খোঁজে মৃন্ময়ী দেবী সাগর এবং নামখানা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। সেখান থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি ছুটে গিয়েছেন কলকাতার লালবাজার এবং ভবানী ভবনের মতো উচ্চপদস্থ দপ্তরেও। স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিক— কাউকেই জানাতে বাকি রাখেননি তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ছেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
মৃন্ময়ী দেবীর অভিযোগ, "ট্রলারে থাকাকালীন ছেলের সঙ্গে যখন শেষবার কথা হয়েছিল, ও জানিয়েছিল ওকে মারধর করা হয়েছে। যে প্রতিবেশী ওকে পাঠিয়েছিল, তাকে বারবার ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করলেও সে ছ'মাস ধরে টালবাহানা করেছে। আজ সবাই ফিরে এল, কিন্তু আমার ছেলে এল না।"
পুলিশি তদন্তে কোনো অগ্রগতি না দেখে অবশেষে মেয়েকে সাথে নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মৃন্ময়ী প্রামাণিক। কোনো আইনজীবী যদি তাঁর এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়ান এবং ছেলেকে খুঁজে পেতে আইনি পথে সাহায্য করেন, সেই আশাতেই এখন দিন কাটছে তাঁর। একজন মায়ের এই লড়াই এখন সাগরদ্বীপের মানুষের মুখে মুখে। প্রশাসন কি পারবে দীর্ঘ দেড় বছর পর ছেলের মুখে হাসি ফুটিয়ে মৃন্ময়ী দেবীর কোলে ফিরিয়ে দিতে? উত্তরের অপেক্ষায় সাগর।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন