কলকাতা: আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ফের ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ সন্দীপ-সহ মোট পাঁচজন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত জেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীদের।
সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও যে চারজনের জামিনের আর্জি আদালত নাকচ করেছে, তাঁরা হলেন - আফসার আলি খান, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা এবং আশিস পাণ্ডে।
আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারের অভিযোগ ছিল, সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষ থাকাকালীন হাসপাতালে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলেছে। টেন্ডারে কারচুপি করে পছন্দের ব্যবসায়ীদের বরাত পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ২ সেপ্টেম্বর সিবিআই সন্দীপ ঘোষকে প্রথম গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আফসার, বিপ্লব, সুমন এবং হাউজ স্টাফ আশিস পাণ্ডেকেও নিজেদের হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ২৯ নভেম্বর আলিপুর আদালতে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি করের সেমিনার হলে চিকিৎসক-ছাত্রীর নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে জনরোষ তীব্র হয়। প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও গত বছর ডিসেম্বর মাসে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সন্দীপ জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু, দুর্নীতির মামলায় জামিন না মেলায় তাঁকে জেলেই থাকতে হয়।
সোমবার হাইকোর্টের এই রায়ের পর স্পষ্ট হয়ে গেল, আপাতত আলিপুর জেলই সন্দীপ ঘোষের ঠিকানা। তদন্তের এই স্তরে অভিযুক্তদের মুক্তি দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছে আদালত।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন