গাজিয়াবাদের বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনার নেপথ্যে উঠে এল কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি মারাত্মক আসক্তি এবং পারিবারিক টানাপোড়েনের তথ্য। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অনলাইন গেম এবং কোরীয় বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মানসিক যন্ত্রণা থেকেই আত্মঘাতী হয়েছে তিন বোন— নিশিকা, প্রাচী এবং পাখি।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, তিন বোনের মধ্যে কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাঁরা সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুঁজে থাকত। এই আসক্তি কাটাতে বাবা চেতন কুমার কড়া পদক্ষেপ নেন। বড় মেয়ে নিশিকাকে তিন মাস আগে এবং প্রাচীকে ১৫ দিন আগে ফোন কিনে দিয়েছিলেন বাবা। আসক্তি কমাতে সেই ফোন দুটি সম্প্রতি বিক্রি করে দেন চেতন কুমার। ফোন হারিয়ে কোরীয় বন্ধুদের সঙ্গে গেম খেলা বা যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় গভীর অবসাদে ডুবে যায় তিন বোন।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তিন বোন তাঁদের মায়ের ফোন থেকে কোরীয় অ্যাপে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনো যান্ত্রিক কারণে সেই অ্যাপে প্রবেশ করতে না পেরে তাঁদের হতাশা চরমে পৌঁছায়। এরপরই গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ১০তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে তাঁরা আত্মঘাতী হয়।
তদন্তে একটি অদ্ভুত পারিবারিক কাঠামোও সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, চেতনের তিন স্ত্রীই সম্পর্কে সহোদরা বোন। প্রথম স্ত্রীর কন্যা নিশিকা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর কন্যা প্রাচী ও পাখি। তবে মায়েদের তুলনায় বাবার সঙ্গেই তিন বোনের ঘনিষ্ঠতা ছিল বেশি। উদ্ধার হওয়া ৮ পাতার সুইসাইড নোটেও বাবাকে উদ্দেশ্য করেই অনেক কথা লেখা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে সেই ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে, যাঁর কাছে চেতন ফোন দুটি বিক্রি করেছিলেন। গেমের মাধ্যমে বিদেশের কোনো চক্রের সঙ্গে কিশোরীরা যুক্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১০তলা থেকে তিন বোনের এই মরণঝাঁপ ফের একবার কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
বিষয় : Ghaziabad Suicide

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন