নয়াদিল্লি: আজ (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) - বুধবার সুপ্রিম কোর্টে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) বা ভোটারতালিকার বিশেষ সংশোধন মামলায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই আইনি লড়াই। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি কী কথা হল 'বাংলার সাধারণ নাগরিকের প্রতিনিধি'মমতার, তা জেনে নিন বিশদে:
শ্যাম দেওয়ান (মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী): ৫০ হাজারের বেশি নামের ক্ষেত্রে খুবই সামান্য গরমিল দেখা যাচ্ছে। ২০০২ সালের ইলেকট্রোরাল রোল ছিল বাংলায়, কিন্তু এবার সেটা ইংরেজিতে করা হয়েছে। ফলে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সামান্য নামের বানানে গণ্ডগোল আছে, এগুলির জন্য সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত: রাজ্য সরকার যদি কিছু উপযুক্ত আধিকারিকদের কাজে নিযুক্ত করে যাতে সহযোগিতা করতে পারে কমিশনকে। যারা কমিশনকে জানাতে পারবে এগুলি সামান্য ভুল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি কমিশনকে ৬ বার চিঠি লিখেছি। কমিশন কোনও উত্তর দেয়নি। সেই জন্যই আমি আদালতে সওয়াল করতে চাই। অন্তত ৫ মিনিট সময় দেওয়া হোক বলার জন্য।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত: পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে লিগ্যাল টিম রয়েছে, তারা যথেষ্ট বলেই মনে হয়। (মমতাকে সওয়াল করার অনুমতি দিয়ে)।
কমিশনের আইনজীবী: আমরা সবে লিস্ট হাতে পেয়েছি। দু-একদিন সময় দেওয়া হোক, তারপর আমরা এটার উত্তর দিতে পারব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এসআইআর প্রক্রিয়া করা হচ্ছে নাম বাদ দেওয়ার জন্য, নাম যুক্ত করার জন্য নয়। মহিলাদের বিয়ের পর তাঁদের টাইটেল পরিবর্তন হয়, সেটার জন্য কি নাম বাতিল করা যায়? যখন রাজ্যে ফসল চাষের সময়, সেই সময় এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। আধার কার্ড নেওয়া হচ্ছে না।
প্রধান বিচারপতি: আধার কার্ডের সীমাবদ্ধতা আছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ১০০ জনের বেশি বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। মাইক্রো অবজারভাররা নাম বাদ দিচ্ছে। তারা সমস্ত নাম বাতিল করছে। মাইক্রো অবজারভারদের বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আনা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি (নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে): মাইক্রো অবজারভারদের আরও সংবেদনশীল হতে বলুন। পাশাপাশি আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিচ্ছে, রাজ্যের গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নাম দিতে যারা এই লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির (যৌক্তিক অসংগতি) কাজে সহযোগিতা করবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি আদালতের কাছে হাতজোড় করে বলছি গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার চালিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়, ভোটারতালিকা থেকে নাম কাটার ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজারভারদের আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং সতর্ক হতে হবে। ভোটার তালিকার অসঙ্গতি দূর করার কাজে স্বচ্ছতা আনতে রাজ্য সরকারকে একদল গ্রুপ-বি আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা সরাসরি এই প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।
পরবর্তী শুনানি: আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওইদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা দিয়ে তাদের অবস্থান এবং রাজ্য সরকারের তোলা অভিযোগের উত্তর জানাতে হবে

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন