Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঠাকুমার মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ নিতে রক্তমাখা কাটারি হাতে থানায় হাজির নাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঠাকুমার মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ নিতে রক্তমাখা কাটারি হাতে থানায় হাজির নাতি

বর্ধমান: চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে এলোপাথাড়ি কাটারির কোপ, আর তারপর শান্ত মাথায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ—মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত ব্যক্তির নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তিনি পেশায় একজন হাতুড়ে ডাক্তার ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতো বাদামতলায় নিজের চেম্বার খোলেন রাজা ভৌমিক। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে পৌঁছান শক্তিগড় থানার আমড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন রুইদাস। অভিযোগ, জীবনের ব্যাগে লুকানো ছিল একটি ধারালো কাটারি। চেম্বারে ঢুকেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চিকিৎসক রাজা ভৌমিকের মাথায় একের পর এক কোপ মারতে শুরু করেন জীবন। রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক।

ঘটনার বীভত্সতা এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসককে খুনের পর জীবন রুইদাস রক্তমাখা কাটারি নিয়ে সোজা বর্ধমান থানায় হাজির হন। পুলিশকে তিনি জানান, "আমি ডাক্তারকে খুন করে এসেছি।" তাঁর কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। দ্রুত তাঁকে নিয়ে বাদামতলার ওই চেম্বারে পৌঁছায় পুলিশ। সেখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জীবন রুইদাসের দাবি, মাসখানেক আগে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়। জীবনের ধারণা ছিল, রাজা ভৌমিকের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমা মারা গিয়েছেন। সেই শোক এবং আক্রোশ থেকেই তিনি এই খুনের পরিকল্পনা করেন। গত দু’বছর ধরে রাজা ভৌমিক ওই এলাকায় চেম্বার চালাচ্ছিলেন।

এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটে গেলেও তাঁরা টেরই পাননি। পুলিশ যখন অভিযুক্তকে নিয়ে এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়। চেম্বারের ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে আটক করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও আর কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

বিষয় : Bardhaman Murder

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ঠাকুমার মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ নিতে রক্তমাখা কাটারি হাতে থানায় হাজির নাতি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বর্ধমান: চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে এলোপাথাড়ি কাটারির কোপ, আর তারপর শান্ত মাথায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ—মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত ব্যক্তির নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তিনি পেশায় একজন হাতুড়ে ডাক্তার ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতো বাদামতলায় নিজের চেম্বার খোলেন রাজা ভৌমিক। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে পৌঁছান শক্তিগড় থানার আমড়া গ্রামের বাসিন্দা জীবন রুইদাস। অভিযোগ, জীবনের ব্যাগে লুকানো ছিল একটি ধারালো কাটারি। চেম্বারে ঢুকেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চিকিৎসক রাজা ভৌমিকের মাথায় একের পর এক কোপ মারতে শুরু করেন জীবন। রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক।ঘটনার বীভত্সতা এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসককে খুনের পর জীবন রুইদাস রক্তমাখা কাটারি নিয়ে সোজা বর্ধমান থানায় হাজির হন। পুলিশকে তিনি জানান, "আমি ডাক্তারকে খুন করে এসেছি।" তাঁর কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। দ্রুত তাঁকে নিয়ে বাদামতলার ওই চেম্বারে পৌঁছায় পুলিশ। সেখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জীবন রুইদাসের দাবি, মাসখানেক আগে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়। জীবনের ধারণা ছিল, রাজা ভৌমিকের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমা মারা গিয়েছেন। সেই শোক এবং আক্রোশ থেকেই তিনি এই খুনের পরিকল্পনা করেন। গত দু’বছর ধরে রাজা ভৌমিক ওই এলাকায় চেম্বার চালাচ্ছিলেন।এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটে গেলেও তাঁরা টেরই পাননি। পুলিশ যখন অভিযুক্তকে নিয়ে এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়। চেম্বারের ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে আটক করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও আর কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার