Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

চেন্নাইয়ে মালদহের পরিযায়ীর রহস্যমৃত্যু, আটদিন নিখোঁজ থাকার পর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
চেন্নাইয়ে মালদহের পরিযায়ীর রহস্যমৃত্যু, আটদিন নিখোঁজ থাকার পর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

মালদহ: ফের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটল। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) চেন্নাইয়ের একটি স্টেশন সংলগ্ন জঙ্গল থেকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা আলমগীর আলম (২৯)-এর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।


মৃত আলমগীর আলমের বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মশালদহ বাজারে। তিনি চেন্নাইয়ে এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ন’দিন আগে অন্য একটি কাজের জন্য তাঁর হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা ছিল। চেন্নাই থেকে ট্রেন ধরার আগে তিনি ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই আলমগীরের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও সাড়া মেলেনি। সহকর্মীরা স্থানীয় থানায় একটি নিখোঁজ ডায়ারিও করেছিলেন।


টানা আটদিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে তাঁর হায়দরাবাদের ট্রেন ধরার কথা ছিল, তার পরবর্তী একটি স্টেশনের কাছে রেললাইনের ধারের জঙ্গল থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে তারা। আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহ রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে।


এদিকে, মৃত আলমগীরই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী হাবানুর খাতুন ও তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে গোটা পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নিহতের স্ত্রীর দাবি, সংসারের একমাত্র ভরসাকে হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ বা কোনও জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।


এই মৃত্যু কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। মালদহ জেলা বিজেপি সম্পাদক রূপেশ আগরওয়ালের দাবি, রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলেই যুবকদের ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় তৃণমূল আইএনটিটিইউসি সভাপতি সাহেব দাসের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি সরকার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষ বিপদে পড়েছেন এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে (যদিও তামিলনাড়ু বিজেপিশাসিত রাজ্য নয়) গেলেই বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থা ও অত্যাচারের শিকার হতে হচ্ছে।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


চেন্নাইয়ে মালদহের পরিযায়ীর রহস্যমৃত্যু, আটদিন নিখোঁজ থাকার পর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মালদহ: ফের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটল। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) চেন্নাইয়ের একটি স্টেশন সংলগ্ন জঙ্গল থেকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা আলমগীর আলম (২৯)-এর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।মৃত আলমগীর আলমের বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মশালদহ বাজারে। তিনি চেন্নাইয়ে এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ন’দিন আগে অন্য একটি কাজের জন্য তাঁর হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা ছিল। চেন্নাই থেকে ট্রেন ধরার আগে তিনি ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই আলমগীরের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও সাড়া মেলেনি। সহকর্মীরা স্থানীয় থানায় একটি নিখোঁজ ডায়ারিও করেছিলেন।টানা আটদিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে তাঁর হায়দরাবাদের ট্রেন ধরার কথা ছিল, তার পরবর্তী একটি স্টেশনের কাছে রেললাইনের ধারের জঙ্গল থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে তারা। আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহ রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে।এদিকে, মৃত আলমগীরই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী হাবানুর খাতুন ও তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে গোটা পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নিহতের স্ত্রীর দাবি, সংসারের একমাত্র ভরসাকে হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ বা কোনও জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।এই মৃত্যু কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। মালদহ জেলা বিজেপি সম্পাদক রূপেশ আগরওয়ালের দাবি, রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলেই যুবকদের ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় তৃণমূল আইএনটিটিইউসি সভাপতি সাহেব দাসের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি সরকার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষ বিপদে পড়েছেন এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে (যদিও তামিলনাড়ু বিজেপিশাসিত রাজ্য নয়) গেলেই বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থা ও অত্যাচারের শিকার হতে হচ্ছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার