নদিয়ার শান্তিপুরে এক তাঁত শিল্পীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৬ বছর বয়সী সুবোধ দেবনাথের ঝুলন্ত দেহ। আর এই মৃত্যুর ঘটনায় ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে 'এসআইআর' (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার আতঙ্ক।
শান্তিপুর থানার ঢাকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুবোধবাবু পেশায় ছিলেন তাঁত শিল্পী। বাড়িতে তাঁর অসুস্থ স্ত্রী এবং এক ছেলে রয়েছেন। অভাবের সংসারে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে কোনওরকমে দিন কাটছিল তাঁর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপুরের কামারপাড়ায় যে গ্যারাজ ঘরে তিনি নিয়মিত তাঁত বুনতেন, সেখানেই তাঁকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, সুবোধবাবুর আত্মহত্যার মূলে রয়েছে ভোটার তালিকার শুনানি সংক্রান্ত নোটিস। জানা গেছে ২০১০ সালে সুবোধবাবুর পরিবারের নাম ভোটার তালিকায় ওঠে, নিয়ম অনুযায়ী ২০০২ সালের নথির সঙ্গে কোনও যোগসূত্র (লিঙ্ক) খুঁজে না পাওয়ায় তাঁর কাছে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস আসে। মৃতের আত্মীয়দের দাবি, নোটিস আসার পর থেকেই সুবোধবাবু খাওয়া-দাওয়া একপ্রকার ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রতিবেশী ও পরিচিতদের কাছে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতেন, "হয়তো এবার জেলে যেতে হবে।" নথিপত্র সংক্রান্ত এই জটিলতা ও আইনি জটিলতার ভয়ে তিনি গভীর মানসিক অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে কেন নথির দোহাই দিয়ে এভাবে মানসিক চাপের মুখে ঠেলে দেওয়া হলো? পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি কেবলই মানসিক অবসাদজনিত আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। তবে শান্তিপুরের তাঁত মহলে এখন একটাই আলোচনা—নথির লড়াই কি তবে এক সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল?

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন