নয়াদিল্লি: গ্রাহকের দরজায় ১০ মিনিটে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চটকদার প্রতিশ্রুতি এবার অতীত হতে চলেছে! ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করল ব্লিনকিট, জেপটো, সুইগি এবং জোমাটোর মতো কুইক সার্ভিস অনলাইন কমার্স সংস্থাগুলি। শ্রম মন্ত্রকের কড়া বার্তার পর সংস্থাগুলি জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের ব্র্যান্ডিং এবং বিজ্ঞাপন থেকে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’র প্রতিশ্রুতি সরিয়ে নেবে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এই সংস্থাগুলির আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার এই অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে ডেলিভারি পার্টনার বা গিগ কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। রাস্তায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্র। সরকার সাফ জানায়, কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপনী চমক থেকে এই নির্দিষ্ট সময়ের বাধ্যবাধকতা সরাতেই হবে।
গত ডিসেম্বরের শেষে এবং নতুন বছরের শুরুতে দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন প্রায় ২ লক্ষ ডেলিভারি কর্মী। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এমনকী কলকাতাতেও এর প্রভাব পড়েছিল। ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স-এর নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—বিপজ্জনক ‘১০-মিনিট ডেলিভারি’ মডেল বন্ধ করা। কর্মীদের অভিযোগ ছিল, ডেলিভারি দিতে ১০ মিনিটের বেশি দেরি হলেই রেটিং কমে যাওয়া বা ইনসেনটিভ কাটা যাওয়ার ভয়ে তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন।
কেন্দ্রের এই নির্দেশের পর ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু করেছে জ়োমাটোর মালিকানাধীন ব্লিনকিট। তাদের স্লোগান ‘১০ মিনিটে ১০ হাজার পণ্য’ বদলে এখন করা হচ্ছে ‘আপনার দোরগোড়ায় ৩০ হাজার পণ্য’। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের বদলে এখন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং পরিষেবার উপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। জেপটো এবং সুইগি-র তরফেও দ্রুত বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে ১০ মিনিটের দাবি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাগুলির দাবি, এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে ডেলিভারি খুব ধীর হয়ে যাবে। তাদের যুক্তি, স্টোর যদি গ্রাহকের বাড়ির খুব কাছে থাকে, তবে পণ্য দ্রুত পৌঁছবেই। কিন্তু, বিজ্ঞাপনে ১০ মিনিটের গ্যারান্টি না থাকায় ডেলিভারি কর্মীদের উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ কমবে। এতে রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশিষ্ট মহল কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দ্রুত পরিষেবার প্রয়োজন থাকলেও মানুষের জীবনের বিনিময়ে তা কাম্য নয়। এবার দেখার, এই সিদ্ধান্তের ফলে গিগ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও কাজের পরিবেশ কতটা উন্নত হয়।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন