হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরব ভারত সরকার। ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত ইরানের ডেপুটি চিফ অফ মিশন মহম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে তলব করেছে বিদেশমন্ত্রক। কেন এই হামলা চালানো হল এবং কী পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হল, তা নিয়ে তেহরানের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে ভারত।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সোমবার ওমান উপকূলের কাছে ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামে দু’টি জাহাজকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় মোট আটজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাবিক। ‘মোম্বাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। হামলার নিন্দা করে পালটা পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় হয়েছে ভারত। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ওপর ফের হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। টানা তিন দিনের এই সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজের ওপর নতুন করে অবরোধের ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছিল ওয়াশিংটন। তার জবাবেই ইরান বাহরিন, জর্ডন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর একাধিক জাহাজকে নিশানা করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা এই সংঘাতের আঁচ পড়েছে ভারতীয়দের উপরও। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ১১ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। গত মাসেই পালাউ -পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি সেট্টেবেলো’-তে মার্কিন হামলায় মৃত্যু হয়েছিল তিন ভারতীয় নাবিকের। হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘তৈলধমনী’ বলা হয়। সেই অঞ্চলেই ক্রমশ বাড়তে থাকা সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন