হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ভারতীয় নাবিকবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার জেরে নতুন করে শুরু হয়েছে সংঘাত। রবিবার ইরানের একাধিক এলাকায় মার্কিন হামলার পর সোমবার কুয়েত, বাহরিন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি, বাহরিনের ইসা এয়ারবেস-সহ একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কাতার, ওমান এবং জর্ডানেও হামলার কথা জানিয়েছে তেহরান। আইআরজিসি-র দাবি, এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার অবকাঠামো এবং ড্রোন কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে রবিবার ইরানের কেশম, সিরিক, বন্দর আব্বাস, জাস্ক এবং বুশেহর-সহ প্রায় ১৪০টি জায়গায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালায় ইরান। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও একজন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে। পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “একতরফা চুক্তির দিন শেষ। কোনও হামলার ঘটনা ঘটলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে আমেরিকা ও তার মিত্রদের।”
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন