হুগলির মাহেশে প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে পালিত হল শ্রীজগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। সোমবার সকাল থেকেই মাহেশ জগন্নাথ মন্দির চত্বরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ বছর ৬৩০তম রথ ও স্নানযাত্রা উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। স্নানযাত্রা শেষ হতেই শুরু হয়ে গেল রথযাত্রার দিন গোনা।
সকালে ‘পহুন্ডি’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে মূল মন্দির থেকে স্নানমঞ্চে আনা হয়। এরপর দেবতাদের স্নানবেশ পরিয়ে নির্দিষ্ট শুভক্ষণে মহাস্নান শুরু হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অমৃতযোগে শুরু হয় এই বিশেষ আচার। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল, দেড় মণ দুধ এবং ১০৮টি কলসে রাখা বিভিন্ন পবিত্র উপকরণ দিয়ে জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রার মহাভিষেক সম্পন্ন হয়। এই বিশেষ স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত মাহেশে উপস্থিত হন।
দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা শিশির অধিকারীর
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মহাস্নানের পর জগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনবসর’ পর্ব। এই সময়ে মন্দিরের মূল বিগ্রহ জনসাধারণের দর্শনের জন্য বন্ধ থাকে এবং বিশেষ সেবা-শুশ্রূষার পর নবযৌবন রূপে রথযাত্রার আগে আবার দর্শন দেন মহাপ্রভু। মাহেশ জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক ও অন্যতম সেবায়েত পিয়াল অধিকারী জানান, স্নানযাত্রা উপলক্ষে এ দিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে।
তাঁর কথায়, স্নানযাত্রার পর বিভিন্ন বিশেষ বেশে সজ্জিত করা হবে মহাপ্রভুকে। মঙ্গলবার থেকে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকবে এবং নবযৌবন দর্শনের দিন, অর্থাৎ ১৪ জুলাই আবার ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এদিকে একই দিনে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরেও স্নানযাত্রা উপলক্ষে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুই তীর্থক্ষেত্রেই উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে মহাপ্রভুর এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন