Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

রাম মন্দিরের দানবাক্সে কোটি কোটির ডাকাতি! রাতারাতি কোটিপতি ৮ গণনাকারীর ডেরায় পুলিশের মেগা রেড

রাম মন্দিরের দানবাক্সে কোটি কোটির ডাকাতি! রাতারাতি কোটিপতি ৮ গণনাকারীর ডেরায় পুলিশের মেগা রেড
FILE IMAGE

অযোধ্যা: রামভক্তদের কষ্টের দানের ওপর থাবা বসিয়ে রাতারাতি কোটিপতি! অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) ভক্তদের দেওয়া হুন্ডি বা দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এবার তদন্তের গতি আরও বাড়াল প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকেই এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল আট অভিযুক্তের বাড়িতে একযোগে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ মেগা টিম। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিটের (SIT) রিপোর্টের ভিত্তিতে গত সপ্তাহেই এই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের ডেরায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ এই চুরির টাকার উৎস এবং লুকিয়ে রাখা বাকি খাজাঞ্চির খোঁজ চালাচ্ছেন দুঁদে তদন্তকারীরা।


রবিবারের এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে খোদ স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং শীর্ষ পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত রয়েছেন। ধৃত আট অভিযুক্ত হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব (যিনি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের প্রাক্তন গাড়িচালক)। এরা সকলেই রাম মন্দিরের দানবাক্সের টাকা গণনার পবিত্র দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাম মন্দিরের ক্যাশ কাউন্টিং ইউনিটে কাজ পাওয়ার পর থেকেই এই সাধারণ ঘরের যুবকদের জীবনযাত্রা রাতারাতি ভেলকির মতো বদলে যায়। অভিযুক্ত অনুকূল মিশ্রর কাকিমা নেহা মিশ্র পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুকূলের পরিবার আগে অত্যন্ত সাধারণ অবস্থায় দিন কাটাত। কিন্তু মন্দিরে কাজ পাওয়ার পর থেকেই আচমকা বিপুল আর্থিক প্রতিপত্তি এবং বিলাসবহুল জীবন কাটাতে শুরু করে তারা।


তদন্তকারীদের কড়া নজর এখন অভিযুক্তদের পরিবারের ‘বিলাসবহুল লাইফস্টাইল’-এর ওপর। গত ৪ বছরে অভিযুক্তরা ঠিক কত টাকার সম্পত্তি বাড়িয়েছেন, কোথায় কোথায় বেনামে জমি কিনেছেন, কত টাকার সোনা বা ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বানিয়েছেন, তার একটি বিস্তারিত কোলাজ তৈরি করছে পুলিশ। এর জন্য পরিবারের সদস্যদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যদিও তিন্নু ও মণীশ যাদবের পরিবার তদন্তে একেবারেই সহযোগিতা করছে না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাম মন্দিরের হিসাবের খাতা অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি ও অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে। বাকি কোটি কোটি টাকা কোথায় লুকানো হলো, তা জানতেই এই অল-আউট তল্লাশি। দু’দিন আগেই স্থানীয় আদালত এই আটজনকে সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছিল। আগামীকাল তাঁদের ফের আদালতে পেশ করে বাকি টাকা উদ্ধারের স্বার্থে হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন জানাবে পুলিশ।

বিষয় : UPPOLICE templedonationscam ayodhyarammandir rammandirtheft

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


রাম মন্দিরের দানবাক্সে কোটি কোটির ডাকাতি! রাতারাতি কোটিপতি ৮ গণনাকারীর ডেরায় পুলিশের মেগা রেড

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
অযোধ্যা: রামভক্তদের কষ্টের দানের ওপর থাবা বসিয়ে রাতারাতি কোটিপতি! অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) ভক্তদের দেওয়া হুন্ডি বা দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এবার তদন্তের গতি আরও বাড়াল প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকেই এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল আট অভিযুক্তের বাড়িতে একযোগে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ মেগা টিম। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিটের (SIT) রিপোর্টের ভিত্তিতে গত সপ্তাহেই এই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের ডেরায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ এই চুরির টাকার উৎস এবং লুকিয়ে রাখা বাকি খাজাঞ্চির খোঁজ চালাচ্ছেন দুঁদে তদন্তকারীরা।রবিবারের এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে খোদ স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং শীর্ষ পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত রয়েছেন। ধৃত আট অভিযুক্ত হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব (যিনি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের প্রাক্তন গাড়িচালক)। এরা সকলেই রাম মন্দিরের দানবাক্সের টাকা গণনার পবিত্র দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাম মন্দিরের ক্যাশ কাউন্টিং ইউনিটে কাজ পাওয়ার পর থেকেই এই সাধারণ ঘরের যুবকদের জীবনযাত্রা রাতারাতি ভেলকির মতো বদলে যায়। অভিযুক্ত অনুকূল মিশ্রর কাকিমা নেহা মিশ্র পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুকূলের পরিবার আগে অত্যন্ত সাধারণ অবস্থায় দিন কাটাত। কিন্তু মন্দিরে কাজ পাওয়ার পর থেকেই আচমকা বিপুল আর্থিক প্রতিপত্তি এবং বিলাসবহুল জীবন কাটাতে শুরু করে তারা।তদন্তকারীদের কড়া নজর এখন অভিযুক্তদের পরিবারের ‘বিলাসবহুল লাইফস্টাইল’-এর ওপর। গত ৪ বছরে অভিযুক্তরা ঠিক কত টাকার সম্পত্তি বাড়িয়েছেন, কোথায় কোথায় বেনামে জমি কিনেছেন, কত টাকার সোনা বা ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বানিয়েছেন, তার একটি বিস্তারিত কোলাজ তৈরি করছে পুলিশ। এর জন্য পরিবারের সদস্যদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যদিও তিন্নু ও মণীশ যাদবের পরিবার তদন্তে একেবারেই সহযোগিতা করছে না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাম মন্দিরের হিসাবের খাতা অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি ও অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে। বাকি কোটি কোটি টাকা কোথায় লুকানো হলো, তা জানতেই এই অল-আউট তল্লাশি। দু’দিন আগেই স্থানীয় আদালত এই আটজনকে সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছিল। আগামীকাল তাঁদের ফের আদালতে পেশ করে বাকি টাকা উদ্ধারের স্বার্থে হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন জানাবে পুলিশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার