Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোটের পরেই চরম অ্যাকশন! দোকান দখল ও হিংসার অভিযোগে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট নেতাকে তাড়াল বিজেপি

ভোটের পরেই চরম অ্যাকশন! দোকান দখল ও হিংসার অভিযোগে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট নেতাকে তাড়াল বিজেপি
ছবি সংগৃহীত

বর্ধমান: ‘দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অন্যায় করলে নিজের লোককেও রেয়াত করা হবে না।’ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে বারবার এই কড়া বার্তা দিয়েছে বিজেপি। এবার সেই বার্তারই এক বড়সড় প্রতিফলন দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানে। ভোট পরবর্তী হিংসা এবং জোরপূর্বক দোকান ঘর দখল করার মতো গুরুতর দলবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর্ধমানের দুই প্রভাবশালী বিজেপি নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করল গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস পাঠিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। দলের রাজ্য শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই কড়া পদক্ষেপের চিঠি পৌঁছানো মাত্রই জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে।


নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শোকজ ও সাময়িক সাসপেনশনের খাঁড়া ঝুলিয়েছে বিজেপি। এই আবহেই এবার কোপ পড়ল বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি নেতা সুমিত দত্ত এবং বর্ধমান উত্তর বিধানসভার নেতা রামানন্দ মজুমদারের ওপর। সুমিত দত্তর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়ানো, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোর করে দোকান ঘর দখলের চেষ্টার মতো একাধিক লজ্জাজনক অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রামানন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধেও ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র কল্যাণকুমার মাঝি এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল। যত বড় কার্যকর্তাই হোক না কেন, অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই দুই নেতা দলের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না।


দলের এই নজিরবিহীন ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর অবশ্য মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সুমিত দত্ত। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সুমিতবাবুর পাল্টা অভিযোগ, বিজেপিরই একাংশ আসলে ভেতরে ভেতরে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে এবং রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতে চাইছে। দোকান ঘর দখলের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ওই ঘরটি অন্য একজনের কাছ থেকে তিনি আইন মেনেই ভাড়ায় নিয়েছেন। যথাসময়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই শোকজের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দেবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে অপর অভিযুক্ত নেতা রামানন্দ মজুমদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, ৭ দিনের মধ্যে এই দুই নেতার জবাব পাওয়ার পর দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

বিষয় : SuvenduAdhikari PostPollViolence BARDHAMANPOLITICS bjpsuspension

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


ভোটের পরেই চরম অ্যাকশন! দোকান দখল ও হিংসার অভিযোগে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট নেতাকে তাড়াল বিজেপি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
বর্ধমান: ‘দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অন্যায় করলে নিজের লোককেও রেয়াত করা হবে না।’ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে বারবার এই কড়া বার্তা দিয়েছে বিজেপি। এবার সেই বার্তারই এক বড়সড় প্রতিফলন দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানে। ভোট পরবর্তী হিংসা এবং জোরপূর্বক দোকান ঘর দখল করার মতো গুরুতর দলবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর্ধমানের দুই প্রভাবশালী বিজেপি নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করল গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস পাঠিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। দলের রাজ্য শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই কড়া পদক্ষেপের চিঠি পৌঁছানো মাত্রই জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে।নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শোকজ ও সাময়িক সাসপেনশনের খাঁড়া ঝুলিয়েছে বিজেপি। এই আবহেই এবার কোপ পড়ল বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি নেতা সুমিত দত্ত এবং বর্ধমান উত্তর বিধানসভার নেতা রামানন্দ মজুমদারের ওপর। সুমিত দত্তর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়ানো, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোর করে দোকান ঘর দখলের চেষ্টার মতো একাধিক লজ্জাজনক অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রামানন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধেও ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র কল্যাণকুমার মাঝি এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল। যত বড় কার্যকর্তাই হোক না কেন, অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই দুই নেতা দলের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না।দলের এই নজিরবিহীন ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর অবশ্য মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সুমিত দত্ত। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সুমিতবাবুর পাল্টা অভিযোগ, বিজেপিরই একাংশ আসলে ভেতরে ভেতরে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে এবং রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতে চাইছে। দোকান ঘর দখলের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ওই ঘরটি অন্য একজনের কাছ থেকে তিনি আইন মেনেই ভাড়ায় নিয়েছেন। যথাসময়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই শোকজের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দেবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে অপর অভিযুক্ত নেতা রামানন্দ মজুমদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, ৭ দিনের মধ্যে এই দুই নেতার জবাব পাওয়ার পর দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার