বোলপুর: তৃণমূলের নজিরবিহীন ভাঙনের পর এবার গোটা রাজ্যের নজর বীরভূমের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দিকে। দল ভেঙে এখন দু'টুকরো—একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন 'কালীঘাট তৃণমূল', অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন 'আসল তৃণমূল'।
এই হাইভোল্টেজ ডামাডোলের মাঝে কেষ্ট কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে নিজের জবাবে ধোঁয়াশা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি। সটান জানিয়ে দিলেন, “আমি নতুন-পুরনো, পক্ষ-বিপক্ষ বুঝি না। আমি এখনও তৃণমূলেই আছি।” তবে তিনি নেত্রীর পাশেই আছেন কিনা, তা কিন্তু কোনওভাবেই স্পষ্ট করেননি। বীরভূমের এই হেভিওয়েট নেতার সাফ কথা, সিপিএমকে খেদিয়ে জন্মলগ্ন থেকেই এই দলটা তিনি করছেন, তাই তিনি তৃণমূলেই আছেন। কিন্তু ‘কোন’ তৃণমূলে—সেই রহস্য তিনি জিইয়ে রাখলেন।
অনুব্রত মণ্ডল ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও, বীরভূম জেলা তৃণমূলে কিন্তু ইতিমধ্যেই বিরাট ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব্য তৃণমূলের নবগঠিত জাতীয় কর্মসমিতিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন বীরভূমের একাধিক শীর্ষনেতা। বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা, হাসনের বিধায়ক কাজল শেখের পাশাপাশি লাভপুর ও রামপুরহাটের দুই প্রাক্তন বিধায়ক তথা হেভিওয়েট নেতা অভিজিৎ সিনহা এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ঋতব্রত শিবিরের ওয়ার্কিং কমিটিতে। শুধু তাই নয়, সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলের সেই বিশেষ অধিবেশনে হাজির ছিলেন সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী-সহ বীরভূমের একাধিক পুরসভার পুরপ্রধান ও কাউন্সিলররা। ফলে অনুব্রতর নিজের জেলাতেই ‘কালীঘাট’ কার্যত কোণঠাসা।
তৃণমূলকে নিশানা দিলীপ ঘোষ, তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে বীরভূমে তৃণমূলের অফিশিয়াল কোনও পদাধিকারী নেই। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে নব্য তৃণমূলের নেতারাই এখন জেলার রাশ নিজেদের হাতে নিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বর্ষীয়ান নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচনের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি। একের পর এক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় ফাঁসলেও দল পাশে দাঁড়ায়নি। সেই উষ্মা এবং কোর কমিটির একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই পদক্ষেপ। নব্য শিবিরের নেতাদের দাবি, গ্রামীণ কৃষিজীবী ও শ্রমিক সমর্থকদের কাছে দলের ‘প্রতীক’টাই আসল, ব্যক্তি নয়। আর তাঁদের নতুন দলে গঠনতন্ত্র মেনে সবার মতামত নিয়েই সমষ্টিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তৃণমূলের এই অন্দরমহলের কামড়াকামড়ি নিয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা চিন্তিত নয় গেরুয়া শিবির। বীরভূম সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বাবন দাস এই চরম কোন্দলকে কটাক্ষ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওদের এই দল ভাগ নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। ওদের প্রতীকেও এখন আর কোনও লোক নেই, আর ব্যক্তিতেও কেউ নেই। মানুষ বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়ে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, তা পূরণ করাই এখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। তবে অনুব্রত মণ্ডলের এই রহস্যময় অবস্থান আগামী দিনে বীরভূমের মাটিতে 'কালীঘাট' বনাম 'নিউটাউন' শিবিরের লড়াইকে কোন স্তরে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন