বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন মঙ্গলবার দেখা গেল তুমুল হৈ-হট্টগোল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বক্তব্য রাখতে উঠলেই কক্ষের ভেতরে শুরু হয় ‘চোর চোর’ স্লোগান। স্পিকার তাঁর নাম ঘোষণা করার পরই বিরোধী শিবির থেকে এই স্লোগান ওঠে বলে জানা যায়।
তবে পরিস্থিতির মাঝেও হাসিমুখে স্লোগানের জবাব দিতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। তিনি বলেন, “আমাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” নিজের বক্তব্য শুরু করেই স্পিকার, মুখ্যমন্ত্রী এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি প্রথমবার বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন এবং এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। পাশাপাশি তিনি নিজের নাম ও পরিচিতি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন - “নামটা মনে রাখবেন, কুণাল কুমার ঘোষ।”
অধিবেশন চলাকালীন একাধিকবার স্লোগান ও বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্পিকার বারবার হস্তক্ষেপ করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে কুণাল ঘোষকেও অনুরোধ করা হয় অন্য প্রসঙ্গে না যেতে। এর মধ্যেই প্রাক্তন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্পিকারের বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। কুণাল ঘোষকে তাঁকে শান্ত করতে “শোভনদা বসুন” বলতেও শোনা যায়। বক্তৃতার সময় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, বিরোধিতা করলেও তা গঠনমূলক হওয়া উচিত এবং অযথা বিরোধিতা করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়।
তবে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন আবারও স্লোগান শুরু হয়। তখন স্পিকারের উদ্দেশ্যে কুণাল ঘোষ বলেন, যদি তাঁকে বারবার বাধা দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তিনি কাউকে কথা বলতে দেবেন না বলেও সতর্ক করেন। বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকেও এদিন নাম করে কটাক্ষ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ হস্তক্ষেপ করেন এবং সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন