কলকাতা: ভরসকালে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আনন্দ বদলে গেল চরম ট্র্যাজেডিতে! চোখের পলকে জলের গভীরে তলিয়ে গেলেন এক তরুণ। সোমবার সকালে কলকাতার চেতলা অগ্রণীর সুইমিং পুলে এই হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। দক্ষ সাঁতারু হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ওই তরুণ জলের তলায় তলিয়ে গেলেন, তা নিয়ে এখন দানা বাঁধছে গভীর রহস্য।
বাংলায় তৈরি হচ্ছে ৫ নতুন জেলা আর ৭ পুরসভা, আপনার এলাকা কোন তালিকায়?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণের নাম ঋত্বিক চক্রবর্তী। তিনি বাদামতলা আষাঢ় সংঘ এলাকার নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের বাসিন্দা। অন্যান্য দিনের মতো সোমবার সকালেও চেতলার ওই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন ঋত্বিক। পুলে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা জলের মধ্যে ছটফট করতে করতে ডুবতে শুরু করেন তিনি। পুলে উপস্থিত বাকিরা বিষয়টি লক্ষ করেই চিৎকার জুড়ে দেন এবং দ্রুত জলে ঝাঁপিয়ে ঋত্বিককে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পুলে উপস্থিত লোকজন ও সুইমিং পুল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় অচৈতন্য ঋত্বিককে তড়িঘড়ি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পরই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই তরুণের পরিবার ও বন্ধু মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য সাঁতার কাটতে গিয়ে এভাবে প্রাণ চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিজনেরা।
ঋত্বিকের এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সুইমিং পুলে নামার পর কি আচমকা কোনও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য বা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়েই চেতলা অগ্রণীর সুইমিং পুলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার সময় পুলে উপস্থিত বাকিদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। আপাতত দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন