কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী কী রঙের ব্যাগ বা 'বহি খাতা' হাতে লোকসভায় ঢুকছেন, তা নিয়ে প্রতি বছরই জাতীয় স্তরে জোর চর্চা হয়। চামড়ার ব্রিফকেস ছেড়ে নির্মলা সীতারামনের লাল শালুতে মোড়া খেরোর খাতা কিংবা ডিজিটাল ট্যাব আনার সংস্কৃতি রীতিমতো সাড়া ফেলেছিল দেশজুড়ে।
তবে এবার দিল্লির সেই হাইপ সরাসরি আছড়ে পড়ল বাংলার বিধানসভায়। সোমবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে এসে খবরের শিরোনাম কেড়ে নিলেন নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর তা বাজেট প্রস্তাবের জন্য নয়, বরং তাঁর হাতের একটি বিশেষ ফাইলের জন্য! চট এবং মাদুরকাঠি দিয়ে তৈরি সেই অনন্য ফাইলের স্মার্টনেস দেখে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।
অর্থমন্ত্রীর হাতের সেই ফাইলটিতে ছিল নিখুঁত কারুকার্য। চটের তৈরি ফাইলে মাদুরকাঠির অর্ধচন্দ্রাকৃতি নকশা এবং তার ডান দিকের উপরের কোণে জ্বলজ্বল করছিল রুপোলি ধাতব অশোকস্তম্ভ। বাহুল্যতা বর্জিত অথচ অত্যন্ত আধুনিক দেখতে এই ফাইলটি দেখে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন, ধুঁকতে থাকা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পাট ও মাদুরশিল্পের নবজন্মের এক নীরব বার্তা দিতে চাইলেন অর্থমন্ত্রী।
ময়লা-আবর্জনায় রাশ টানতে মাঠে নামল পুরসভা, গড়িয়াহাটে শুরু কড়া অভিযান
বিধানসভার অলিন্দে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, বঙ্গে এই অভিনব মোড়কে বাজেট আনার সংস্কৃতি কি স্বপন দাশগুপ্তই প্রথম চালু করলেন? ইতিহাস অবশ্য বলছে অন্য কথা। বাংলার কুটিরশিল্পকে বাজেটের ফ্রেমের সামনে আনার এই ধারা প্রথম শুরু হয়েছিল তৃণমূল জমানাতেই। গত ২০২৫ সালের রাজ্য বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শীতলপাটি এবং চটের তৈরি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ফাইলে মুড়ে বাজেটের নথিপত্র বিধানসভায় এনেছিলেন। যদিও তার আগে ২০২৩ বা ২০২৪ সালে চন্দ্রিমাদেবী এবং তাঁরও আগে দীর্ঘ সময় ধরে অমিত মিত্র আক্ষরিক অর্থেই খোলা খাতার মতো সাধারণ স্পাইরাল বাইন্ডিং করা ডায়েরি হাতেই বাজেট পড়তে চলে আসতেন।
স্মৃতির পাতা ওল্টালে দেখা যায়, বাম জমানার দীর্ঘকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের হাতে বাজেটের দিন কখনও সখনও দেখা যেত চামড়ার চেনা অফিস পোর্টফোলিও ব্যাগ, আবার বেশিরভাগ দিন তিনিও মোটা বাজেটের খাতা হাতেই হেঁটে যেতেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কুটিরশিল্পকে এক অনন্য নিজস্বতায় মুড়ে দিলেন। চট ও মাদুরকাঠির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যে তা বাংলায় সঠিক উড়ান পায়নি, এই অভিযোগ বহু পুরনো। অথচ শহরের শৌখিন মেলা বা বুটিকে চটের ক্লাচ ব্যাগ, টোট ব্যাগ বা টেবিল রানারের বিপুল চাহিদা ও আকাশছোঁয়া দাম। অর্থমন্ত্রীর এই একটা ফাইল যদি রাজ্যের এই প্রান্তিক চট ও মাদুরশিল্পীদের নতুন দিশা দেখাতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত আমজনতা ও বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির লাভই হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন