কলকাতা: দল ছাড়ার পরেই কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের নিশানায় এবার দলের বিদ্রোহী সাংসদেরা। দলত্যাগী কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোটি কোটি টাকা নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া। তাঁর সাফ দাবি, ওই সাংসদেরা ইতিমধ্যেই অগ্রিম বা অ্যাডভান্স বাবদ ৪ কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন।
মহুয়ার এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হতেই এবার পাল্টা কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ অন্যান্য দলত্যাগীরা। একদা সতীর্থের মুখে এমন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা।
মহুয়া মৈত্রের এই কোটি টাকার তত্ত্বের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রীতিমতো পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটেছেন NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন, দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত করে বাইরের লোককে সংসদের পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য যাঁকে অতীতে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তিনি নিজে কত টাকা নিয়ে কী করেছিলেন তা গোটা দেশবাসী ভালো করেই জানেন। এখন তিনিই আবার অন্যদের টাকার অঙ্ক বলে দিচ্ছেন।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রশ্ন, মহুয়া মৈত্র এই নির্দিষ্ট অঙ্কের কথা জানলেন কীভাবে? তিনি স্পষ্ট জানান, যে কুড়ি জন সাংসদ দল ছেড়েছেন, তাঁরা আসলে অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়েই তাঁরা ওই দল থেকে বেরিয়ে অন্য দলে যোগদান করেছেন, এর মধ্যে কোনও প্রকার আর্থিক লেনদেনের গল্প নেই। তাই মহুয়ার এই ভিত্তিহীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
‘যোগ একদিনের নয়, জীবনের জন্য’—হাওড়ায় যোগ দিবসে বার্তা লক্ষ্মীরতন শুক্লার
ঠিক কী লিখেছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা প্রত্যেকে অগ্রিম ৪ কোটি টাকা পেয়েছেন এবং আগামী ৩৬ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে আরও ১ কোটি টাকা করে পাবেন। এরপর একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ওদের আসলে ইডি-সিবিআইয়ের ভয় নেই, ভয় হলো নিজেদের বিপুল সম্পত্তি আর বেআইনিভাবে দখল করা জমি বাঁচানোর।
কলকাতার জিপিও এবং ফুরিয়ে আসা কিছু কালির গল্প
অতীতে কে কোন কালে অভিনেত্রী ছিলেন বা কার কোথায় দুটো অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যাবে, সেই ক্যারিয়ার বাঁচানোর ভয়েই তারা দল ছেড়েছে। পুলিশের ডান্ডা খাওয়ার ভয় আর নিজেদের করা পাপের অছিলাতেই এই সাংসদেরা স্রেফ টাকা খাওয়ার জন্য দলবদল করেছেন বলে তোপ দাগেন মহুয়া, যা নিয়ে এখন আদালত পর্যন্ত জল গড়াতে চলেছে।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন