Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kolkata Durga Puja: মণ্ডপ বাঁধার মুখেই তুলকালাম! মাঝরাতে তাণ্ডব চালিয়ে রক্তারক্তি, পুজোর মুখেই বন্ধ 'অজেয় সংহতি'-র কাজ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Kolkata Durga Puja: মণ্ডপ বাঁধার মুখেই তুলকালাম! মাঝরাতে তাণ্ডব চালিয়ে রক্তারক্তি, পুজোর মুখেই বন্ধ 'অজেয় সংহতি'-র কাজ?
পুজোর মুখেই বন্ধ 'অজেয় সংহতি'-র কাজ। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: পুজো আসতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। চারদিকে যখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার কুঁদঘাট এলাকা। মাঝরাতে ক্লাবের ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলা, চরম ভাঙচুর এবং রক্তারক্তির ঘটনায় থমকে গেল ঐতিহ্যবাহী 'অজেয় সংহতি'-র ৬৬তম বছরের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত রকম পুজোর কাজ বন্ধ রাখার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর ফলে দক্ষিণ শহরতলির অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পুজোর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার মাঝরাতে যখন ক্লাবের ভেতরে পুজোর কাজ ও তোড়জোড় চলছিল, তখনই আচমকা এই ভয়ংকর তাণ্ডব চালানো হয়। গভীর রাতে শিল্পীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল ক্লাবের ভেতরেই। অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল ক্লাবে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে। ঢুকেই তারা তাণ্ডব চালাতে শুরু করে এবং প্রমাণের প্রমাণ লোপাট করতে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে চুরমার করে দেয়। সেসময় বাঁধা দিতে গেলে ক্লাবের অন্যতম সক্রিয় সদস্য অরিজিৎ নন্দীর ওপর মারাত্মক আঘাত করা হয়। রক্তাপ্লুত অবস্থায় ফেটে যায় তাঁর মাথা।

আহত ক্লাব সদস্য অরিজিৎ নন্দী এলাকায় তৃণমূল অনুগামী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হরিদেবপুর থানার পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্তে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় মঙ্গলবার ফেসবুক পেজে একটি স্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশ করেন ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার। সেখানে তিনি জানান, ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অপরাধীদের শনাক্ত করে পুলিশ গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত অজেয় সংহতির দুর্গাপুজোর সমস্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। অন্যদিকে ক্লাবে হামলার সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ক্লাবে কোনোরকম অশান্তি বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে পুজোর মুখে দক্ষিণ কলকাতায় এই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও পুজোর কাজ বন্ধের ঘোষণায় গভীর চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার পুজোপ্রেমী মানুষ।


বিষয় : WestBengalNews KOLKATACRIME HiddenStoriesNews durgapuja2026 kolkatadurgapuja AjeyaSanghati Haridevpur

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Kolkata Durga Puja: মণ্ডপ বাঁধার মুখেই তুলকালাম! মাঝরাতে তাণ্ডব চালিয়ে রক্তারক্তি, পুজোর মুখেই বন্ধ 'অজেয় সংহতি'-র কাজ?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: পুজো আসতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। চারদিকে যখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার কুঁদঘাট এলাকা। মাঝরাতে ক্লাবের ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলা, চরম ভাঙচুর এবং রক্তারক্তির ঘটনায় থমকে গেল ঐতিহ্যবাহী 'অজেয় সংহতি'-র ৬৬তম বছরের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত রকম পুজোর কাজ বন্ধ রাখার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর ফলে দক্ষিণ শহরতলির অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পুজোর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার মাঝরাতে যখন ক্লাবের ভেতরে পুজোর কাজ ও তোড়জোড় চলছিল, তখনই আচমকা এই ভয়ংকর তাণ্ডব চালানো হয়। গভীর রাতে শিল্পীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল ক্লাবের ভেতরেই। অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল ক্লাবে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে। ঢুকেই তারা তাণ্ডব চালাতে শুরু করে এবং প্রমাণের প্রমাণ লোপাট করতে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে চুরমার করে দেয়। সেসময় বাঁধা দিতে গেলে ক্লাবের অন্যতম সক্রিয় সদস্য অরিজিৎ নন্দীর ওপর মারাত্মক আঘাত করা হয়। রক্তাপ্লুত অবস্থায় ফেটে যায় তাঁর মাথা।আহত ক্লাব সদস্য অরিজিৎ নন্দী এলাকায় তৃণমূল অনুগামী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হরিদেবপুর থানার পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্তে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় মঙ্গলবার ফেসবুক পেজে একটি স্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশ করেন ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার। সেখানে তিনি জানান, ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অপরাধীদের শনাক্ত করে পুলিশ গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত অজেয় সংহতির দুর্গাপুজোর সমস্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। অন্যদিকে ক্লাবে হামলার সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ক্লাবে কোনোরকম অশান্তি বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে পুজোর মুখে দক্ষিণ কলকাতায় এই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও পুজোর কাজ বন্ধের ঘোষণায় গভীর চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার পুজোপ্রেমী মানুষ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত