কলকাতা: পুজো মণ্ডপের চত্বরে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বামেদের লাল শালুতে মোড়া মার্কসবাদী বইয়ের স্টল এবার সরাসরি পড়ল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কোপের মুখে। বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের তথাকথিত ‘দ্বিচারিতা’র বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপূজার মণ্ডপের সামনে স্টল করতে হলে সনাতনী সংস্কৃতিকে পুরোপুরি মর্যাদা দিতে হবে; ‘দুর্গাপূজা’ শব্দটি অস্বীকার করে যদি কেবল ‘শারদোৎসব’ লেখা হয়, তবে সেই তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটিও বইয়ের স্টল বসতে দেওয়া হবে না। রাজ্যের সমস্ত পূজা কমিটিকে এই বিষয়ে সরাসরি বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ধর্মের মূল ভিত্তি এড়িয়ে গিয়ে যারা সনাতন ঐতিহ্যকে কেবল ‘কালচারাল’ মোড়ক দিতে চায়, তাদের কোনোভাবেই পুজো প্রাঙ্গণে ব্যবসার বা প্রচারের সুযোগ দেওয়া চলবে না।মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামপন্থার মুখোশ পরে এক শ্রেণির মানুষ সুকৌশলে সনাতন ধর্ম এবং গেরুয়া সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। কপালে তিলক, মাথায় শিখা কিংবা গলায় তুলসীর মালা দেখলেই এক শ্রেণির বাম মনোভাবাপন্নরা বেছে বেছে বিদ্বেষ ছড়ায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, বাংলায় বামেদের পোঁতা এই বিষাক্ত বীজ এবার উপড়ে ফেলার চরম সময় এসে গিয়েছে; এর জন্য আগামী তিন মাস সংঘাতের আবহ তৈরি হলেও সরকার পিছপা হবে না। একই সঙ্গে অতীতের হিসাব টেনে তিনি তোপ দাগেন যে, গরিবের টাকা লুঠ করে আড়াই হাজার পার্টি অফিস তৈরি করা এবং একই পরিবারের কুড়ি জন করে সদস্যকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। শিক্ষক বদলি নিয়ে ক্ষুব্ধ বাম অধ্যাপকদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে ধর্মতলার মোড়ে কৌটো হাতে চাঁদা তুলতে বা ‘গণশক্তি’ বেচতে নামার পরামর্শও দেন তিনি।উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাস ময়দানে কমরেড মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়ার যে ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল, তা বাম জমানার ৩৪ বছরে এক বিশাল জনসংযোগের রূপ নিয়েছিল। ধর্মীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে ভিড় টানতে বামেরা নিজেদের পত্রপত্রিকায় ‘দুর্গাপূজা’র বদলে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করার রেওয়াজ চালু করে। সেই ধারাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বুঝিয়ে দিলেন যে, বই বিক্রিতে কোনো বাধা নেই, তবে স্পষ্ট করে স্বীকার করতে হবে যে এটি সনাতনীদেরই ধর্মীয় উৎসব। উৎসবের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থানে লাল দুর্গ ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে সাংস্কৃতিক মেরুকরণের সংঘাত নতুন করে উত্তাল রূপ নিল।[TECHTARANGA-POST:12499]হিডেন স্টোরিজ নিউজ