Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দশভুজা এবার ‘একাদশভুজা!’ দুর্গার বাড়তি হাত ঘিরে বিতর্ক, বিঁধল বিরোধীরা; জবাবে কী বললেন শমীক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দশভুজা এবার ‘একাদশভুজা!’ দুর্গার বাড়তি হাত ঘিরে বিতর্ক, বিঁধল বিরোধীরা; জবাবে কী বললেন শমীক?
রাজ্যের তরফে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনেই দুর্গার ১১টি হাত। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞাপন ঘিরে শুরু হলো নজিরবিহীন রাজনৈতিক তরজা। সোমবার খবরের কাগজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ রাজ্যবাসীর—তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দেওয়া দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকের সরকারি বিজ্ঞাপনে স্বয়ং দেবী দুর্গার দেখা মিলল ১১টি হাতে! বাম দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডান দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবির মাঝখানে থাকা মা দুর্গার এই ‘একাদশভুজা’ রূপ প্রকাশ্যে আসতেই শাসক বিজেপিকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। বিকেলে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে মেগা বৈঠকের ঠিক আগেই এই বিজ্ঞাপনী বিভ্রাট রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপনের ছবি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পুজোর থিম ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির আমিষ-নিরামিষ ফতোয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আচরণবিধির লম্বা ফতোয়া জারি করা সরকার কোন শাস্ত্র মেনে দশভুজাকে একাদশভুজা বানিয়ে ফেলল? অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও তোপ দেগে বলা হয়েছে, দুর্গাপুজো বাংলার আবেগ ও হৃৎস্পন্দন, আর বাঙালির সংস্কৃতি থেকে বিজেপি সরকার যে কতটা বিচ্ছিন্ন, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। পিছিয়ে থাকেনি সিপিএম-ও; দলের নেতা শতরূপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, দেবতারা দশ হাতে অস্ত্র দিয়েছিলেন অসুরবধের জন্য, আর রাজ্য সরকার বোধহয় বাড়তি হাতটি দিয়েছে পুজোয় নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়াবাজদের কানের গোড়ায় থাপ্পড় মেরে বাংলা থেকে তাড়ানোর জন্য।

চৌধুরী-বিরোধীদের এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে অবশ্য বিষয়টিকে বিজ্ঞাপন প্রস্তুতকারী সংস্থার অসাবধানতাজনিত ভুল বলেই দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই ত্রুটি নিতান্তই সংশোধনযোগ্য এবং এটি নিয়ে রাজনীতি করা কোনোভাবেই শোভা পায় না। তবে পুরো বিতর্কের মুখে হালকা মেজাজে খানিক রসিকতার সুর মিশিয়ে শমীক মন্তব্য করেন, “মা আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।” বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট দফতর বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে উৎসবের মুখে মায়ের এই ‘অতিরিক্ত হাত’ এখন রাজনীতির ময়দানে প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : TMC BengalPolitics BJPBengal ShamikBhattacharya SuvenduAdhikari kunalghosh HiddenStoriesNews durgapuja2026 BreakingNewsBangla

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দশভুজা এবার ‘একাদশভুজা!’ দুর্গার বাড়তি হাত ঘিরে বিতর্ক, বিঁধল বিরোধীরা; জবাবে কী বললেন শমীক?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞাপন ঘিরে শুরু হলো নজিরবিহীন রাজনৈতিক তরজা। সোমবার খবরের কাগজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ রাজ্যবাসীর—তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দেওয়া দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকের সরকারি বিজ্ঞাপনে স্বয়ং দেবী দুর্গার দেখা মিলল ১১টি হাতে! বাম দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডান দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবির মাঝখানে থাকা মা দুর্গার এই ‘একাদশভুজা’ রূপ প্রকাশ্যে আসতেই শাসক বিজেপিকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। বিকেলে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে মেগা বৈঠকের ঠিক আগেই এই বিজ্ঞাপনী বিভ্রাট রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।বিজ্ঞাপনের ছবি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পুজোর থিম ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির আমিষ-নিরামিষ ফতোয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আচরণবিধির লম্বা ফতোয়া জারি করা সরকার কোন শাস্ত্র মেনে দশভুজাকে একাদশভুজা বানিয়ে ফেলল? অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও তোপ দেগে বলা হয়েছে, দুর্গাপুজো বাংলার আবেগ ও হৃৎস্পন্দন, আর বাঙালির সংস্কৃতি থেকে বিজেপি সরকার যে কতটা বিচ্ছিন্ন, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। পিছিয়ে থাকেনি সিপিএম-ও; দলের নেতা শতরূপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, দেবতারা দশ হাতে অস্ত্র দিয়েছিলেন অসুরবধের জন্য, আর রাজ্য সরকার বোধহয় বাড়তি হাতটি দিয়েছে পুজোয় নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়াবাজদের কানের গোড়ায় থাপ্পড় মেরে বাংলা থেকে তাড়ানোর জন্য।চৌধুরী-বিরোধীদের এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে অবশ্য বিষয়টিকে বিজ্ঞাপন প্রস্তুতকারী সংস্থার অসাবধানতাজনিত ভুল বলেই দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই ত্রুটি নিতান্তই সংশোধনযোগ্য এবং এটি নিয়ে রাজনীতি করা কোনোভাবেই শোভা পায় না। তবে পুরো বিতর্কের মুখে হালকা মেজাজে খানিক রসিকতার সুর মিশিয়ে শমীক মন্তব্য করেন, “মা আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।” বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট দফতর বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে উৎসবের মুখে মায়ের এই ‘অতিরিক্ত হাত’ এখন রাজনীতির ময়দানে প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত