কলকাতা: দুর্গাপুজোর ঢাক বাজার আগেই কলকাতা পুরসভা দখলের রণকৌশল চূড়ান্ত করে ফেলল বঙ্গ বিজেপি। দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর গেরুয়া শিবিরের অন্দর থেকে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত—পুজোর মরশুমের মধ্যেই প্রকাশ করে দেওয়া হতে পারে কলকাতা পুরভোটের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রার্থীরা যাতে নিজের নিজের ওয়ার্ডে প্রচারের জন্য অন্তত এক মাসের নিখাদ সময় পান, সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই উৎসবের আবহে টিকিট ফাইনাল করার অভিনব চাল চেলেছে মুরলীধর সেন লেন। শুধু তা-ই নয়, প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে স্বজনপোষণ রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মণ্ডল বা জেলা নেতৃত্বের গণ্ডি টপকে সরাসরি ‘ড্রপ বক্স’ চালু করার ভাবনাও সেরে ফেলেছে রাজ্য নেতৃত্ব। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেই ইতিমধ্যেই টিকিটপ্রত্যাশী ১০ থেকে ১৫ জন নেতার আবেদন জমা পড়তে শুরু করায় ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে রাখছে দল।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভাকে কোনওভাবেই হালকা চালে নিতে নারাজ দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব। পুরোটাই সরাসরি মনিটর করছেন কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। আর ময়দানে সেনাপতির ভূমিকায় নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে, যাঁকে দেওয়া হয়েছে পুরভোটের প্রধান ইনচার্জের গুরুদায়িত্ব। তাঁর সহযোগী কো-ইনচার্জ হিসেবে রয়েছেন পুরনো পোড়খাওয়া নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি প্রবীণ নেতা তথা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে কমিটির আহ্বায়ক এবং বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারিকে সহ-আহ্বায়ক পদে বসিয়ে অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের এক মারাত্মক ভারসাম্য তৈরি করা হয়েছে। কমিটির অন্যতম কাণ্ডারী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট দাবি, মানুষের আশীর্বাদ সঙ্গে নিয়ে এবার কলকাতা পুরসভায় পদ্ম ফোটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, কর্মীরা ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন।
তৃণমূলকে তাদের খাসতালুকে মাত দিতে তৈরি হয়েছে ওয়ার্ড ভিত্তিক ছয় দফার এক নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট। বড় বড় মেগা জনসভা বা চোখধাঁধানো চমক এড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্ব এবার জোর দিচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় ঘরোয়া বৈঠক এবং নিবিড় বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের ওপর। তৃণমূল বোর্ডের যাবতীয় অব্যবস্থা, জলযন্ত্রণা এবং দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য তৈরি হচ্ছে পৃথক পৃথক ‘চার্জশিট’। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার পরেই প্রকাশ করা হবে পুরভোটের আনুষ্ঠানিক সংকল্পপত্র, তবে সেই ইস্তেহার কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে তৈরি হবে না; বরং সাধারণ কলকাতার আমজনতার মতামত ও দাবিদাওয়া সরাসরি গ্রহণ করেই তা রূপ দেওয়া হবে। তৃণমূলের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মুখোশ খোলার পাশাপাশি আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ভুলে পুরনো ও নতুন কর্মীদের যৌথ সমন্বয়ে প্রতিটি অলিগলিতে ঝাঁপানোর ফরমান জারি হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে পুজো আসার আগেই তিলোত্তমার পুরযুদ্ধের উত্তাপ চরমে তুলে দিল বিজেপি।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন