Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Delhi High Court: একদিনের অবরোধেই ২০০০ কোটির বিরাট ক্ষতি! পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সোজা দিল্লি হাই কোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Delhi High Court: একদিনের অবরোধেই ২০০০ কোটির বিরাট ক্ষতি! পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সোজা দিল্লি হাই কোর্টে
দিল্লিতে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন থামাতে গত শনিবার দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন কড়াকড়ি এবং শহরজুড়ে অবরোধের জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর ব্যবসায়ীরা। পুলিশের এই অভূতপূর্ব কড়াকড়ির কারণে কেবল একদিনেই অন্তত ২০০০ কোটি টাকার বিশাল ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছে স্থানীয় বণিক সংগঠন। এই বিপুল লোকসানের বিচার পেতে এবং রাজপথে সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালুর আর্জি জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাই কোর্টের আইনি দরজায় কড়া নেড়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও আইনজীবীরা। মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে এই স্পর্শকাতর আবেদনের শুনানি করতে সম্মত হয়েছে উচ্চ আদালত।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী সচিন পুরী যুক্তি দিয়ে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে প্রতিবাদ কর্মসূচির ক্ষেত্রে কঠোর ও নির্দিষ্ট বিধি প্রয়োগ করা দরকার, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার খর্ব না হয়। শুনানি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান যে, দিল্লির এই বিক্ষোভ ইস্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, তবে হাই কোর্টের এই শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। অন্যদিকে বণিক সংগঠনের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ওপর সমাজবিরোধীদের হামলার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে পৃথক মামলা করেছেন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর সভাপতি বিনোদ জাখর।


উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিরাট সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই বিক্ষোভ রুখতে গত শনিবার দিল্লিকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের আটক করতে কেন্দ্রমুখী প্রায় ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয় এবং দিল্লির ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যন্তর মন্তরের আশেপাশে কোনো জমায়েত হতে না দিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এই অনভিপ্রেত পুলিশি অভিযানকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তোপ দাগেন সিজেপি নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতা সৌরভ ও আশুতোষ এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষায় সরকারের অতি-তৎপরতা নিয়েও চাঁচাছোলা প্রশ্ন তুলেছেন। সবমিলিয়ে, সিজেপির আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আর্থিক ও আইনি জটিলতা এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।

বিষয় : CJP Protest New Delhi Delhi High Court Gyanesh Kumar

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


Delhi High Court: একদিনের অবরোধেই ২০০০ কোটির বিরাট ক্ষতি! পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সোজা দিল্লি হাই কোর্টে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন থামাতে গত শনিবার দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন কড়াকড়ি এবং শহরজুড়ে অবরোধের জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর ব্যবসায়ীরা। পুলিশের এই অভূতপূর্ব কড়াকড়ির কারণে কেবল একদিনেই অন্তত ২০০০ কোটি টাকার বিশাল ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছে স্থানীয় বণিক সংগঠন। এই বিপুল লোকসানের বিচার পেতে এবং রাজপথে সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালুর আর্জি জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাই কোর্টের আইনি দরজায় কড়া নেড়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও আইনজীবীরা। মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে এই স্পর্শকাতর আবেদনের শুনানি করতে সম্মত হয়েছে উচ্চ আদালত।আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী সচিন পুরী যুক্তি দিয়ে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে প্রতিবাদ কর্মসূচির ক্ষেত্রে কঠোর ও নির্দিষ্ট বিধি প্রয়োগ করা দরকার, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার খর্ব না হয়। শুনানি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান যে, দিল্লির এই বিক্ষোভ ইস্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, তবে হাই কোর্টের এই শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। অন্যদিকে বণিক সংগঠনের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ওপর সমাজবিরোধীদের হামলার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে পৃথক মামলা করেছেন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর সভাপতি বিনোদ জাখর।উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিরাট সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই বিক্ষোভ রুখতে গত শনিবার দিল্লিকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের আটক করতে কেন্দ্রমুখী প্রায় ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয় এবং দিল্লির ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যন্তর মন্তরের আশেপাশে কোনো জমায়েত হতে না দিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এই অনভিপ্রেত পুলিশি অভিযানকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তোপ দাগেন সিজেপি নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতা সৌরভ ও আশুতোষ এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষায় সরকারের অতি-তৎপরতা নিয়েও চাঁচাছোলা প্রশ্ন তুলেছেন। সবমিলিয়ে, সিজেপির আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আর্থিক ও আইনি জটিলতা এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত