Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Jantar Mantar: রামলীলা ময়দানে সভা করতে হলে দিতে হবে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা! ২০২৬ সালে ফাঁকা মাত্র তিন দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Jantar Mantar: রামলীলা ময়দানে সভা করতে হলে দিতে হবে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা! ২০২৬ সালে ফাঁকা মাত্র তিন দিন
রামলীলা ময়দানে সভা করতে হলে দিতে হবে টাকা। ফাইল ছবি

নতুন দিল্লি: যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের জন্য ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই বিকল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহাসিক স্থানটি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান। তবে এই মাঠে সভা বা বিক্ষোভ করতে গেলে যেমন চড়া দাম দিতে হবে, তেমনই চলতি বছরে ফাঁকা পাওয়া নিয়েও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রামলীলা ময়দানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। এই মাঠের দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজ়িট বা নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জামানত বাবদ জমা দিতে হয় আরও ৫৫ হাজার টাকা, যা অবশ্য পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য। এর ওপর প্রযোজ্য রয়েছে বিভিন্ন ট্যাক্স বা কর। সব মিলিয়ে এই বিশাল মাঠে একটি সভার অনুমতি পেতে এককালীন ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। দিল্লি পুরসভার উদ্যানপালন বিভাগের কাছ থেকে মাঠের বুকিং নেওয়ার আগে পুলিশের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।


যদিও মাঠের একটি ছোট অংশে সারা বছর বিনামূল্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকে, তবে সেখানে একসঙ্গে মাত্র দেড়শো জন লোক জমায়েত হতে পারেন। অতীতে যন্তর মন্তরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিবাদের অনুমতি মিলত এবং কেবল পুলিশের অনুমতি থাকলেই কাজ চলত। কিন্তু রামলীলা ময়দান অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং এর চারপাশে তিনটি হাসপাতাল ও দিল্লি পুরসভার সদর দফতর থাকায় সেখানে বিক্ষোভ হলে তীব্র যানজটের আশঙ্কা থাকে। পুরসভার একাংশের দাবি, বিনা মূল্যে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।

সবচেয়ে বড় কথা হল, রামলীলা ময়দানে সভা করার ইচ্ছা থাকলেও চলতি ২০-২৬ সালে তা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। কারণ দশেরা, দীপাবলি সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব এবং ছোট-বড় নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে এবছরের বাকি সব দিনগুলির বুকিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে আগামী ২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর— সাকুল্যে এই তিনটি দিনই ফাঁকা রয়েছে রামলীলা ময়দান। প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালের আগে যে স্থানে একটি পুকুর ছিল, পরবর্তীকালে তা বুজিয়ে রামলীলা উৎসবের জন্য এই ময়দান তৈরি করা হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই ঐতিহাসিক মাটিতে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, জয়প্রকাশ নারায়ণ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঐতিহ্যবাহী ময়দানে রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা সভা করা যে রীতিমতো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিষয় : NEW DELHI delhi police Ramlila maidan arvind kejriwal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


Jantar Mantar: রামলীলা ময়দানে সভা করতে হলে দিতে হবে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা! ২০২৬ সালে ফাঁকা মাত্র তিন দিন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নতুন দিল্লি: যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের জন্য ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই বিকল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহাসিক স্থানটি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান। তবে এই মাঠে সভা বা বিক্ষোভ করতে গেলে যেমন চড়া দাম দিতে হবে, তেমনই চলতি বছরে ফাঁকা পাওয়া নিয়েও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রামলীলা ময়দানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। এই মাঠের দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজ়িট বা নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জামানত বাবদ জমা দিতে হয় আরও ৫৫ হাজার টাকা, যা অবশ্য পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য। এর ওপর প্রযোজ্য রয়েছে বিভিন্ন ট্যাক্স বা কর। সব মিলিয়ে এই বিশাল মাঠে একটি সভার অনুমতি পেতে এককালীন ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। দিল্লি পুরসভার উদ্যানপালন বিভাগের কাছ থেকে মাঠের বুকিং নেওয়ার আগে পুলিশের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।যদিও মাঠের একটি ছোট অংশে সারা বছর বিনামূল্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকে, তবে সেখানে একসঙ্গে মাত্র দেড়শো জন লোক জমায়েত হতে পারেন। অতীতে যন্তর মন্তরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিবাদের অনুমতি মিলত এবং কেবল পুলিশের অনুমতি থাকলেই কাজ চলত। কিন্তু রামলীলা ময়দান অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং এর চারপাশে তিনটি হাসপাতাল ও দিল্লি পুরসভার সদর দফতর থাকায় সেখানে বিক্ষোভ হলে তীব্র যানজটের আশঙ্কা থাকে। পুরসভার একাংশের দাবি, বিনা মূল্যে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।সবচেয়ে বড় কথা হল, রামলীলা ময়দানে সভা করার ইচ্ছা থাকলেও চলতি ২০-২৬ সালে তা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। কারণ দশেরা, দীপাবলি সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব এবং ছোট-বড় নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে এবছরের বাকি সব দিনগুলির বুকিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে আগামী ২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর— সাকুল্যে এই তিনটি দিনই ফাঁকা রয়েছে রামলীলা ময়দান। প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালের আগে যে স্থানে একটি পুকুর ছিল, পরবর্তীকালে তা বুজিয়ে রামলীলা উৎসবের জন্য এই ময়দান তৈরি করা হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই ঐতিহাসিক মাটিতে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, জয়প্রকাশ নারায়ণ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঐতিহ্যবাহী ময়দানে রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা সভা করা যে রীতিমতো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত