Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বিয়ের মাত্র ১ বছরেই শেষ লক্ষাধিক ফলোয়ার্সের প্রিয় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’! শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, খুন নাকি আত্মহত্যা?

বিয়ের মাত্র ১ বছরেই শেষ লক্ষাধিক ফলোয়ার্সের প্রিয় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’! শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, খুন নাকি আত্মহত্যা?
FILE IMAGE

লখনউ: সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায় তাঁর হাসিমুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে ঠিক কতটা ঝড় চলছে। লক্ষাধিক মানুষের ভালোবাসা পেলেও নিজের শ্বশুরবাড়িতেই চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছিল তাঁকে। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মানসীর ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমদ্ধেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তরুণীর পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পণের দাবিতে দিনের পর দিন অত্যাচারের পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।


কানপুরের বাসিন্দা মানসীর সঙ্গে ২০২৪ সালে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল সাগর রাজপুত নামে এক যুবকের। সাগর নিজেও সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যাও কয়েক লক্ষ। বিয়ের সময় মানসীর পরিবার নগদ ৭ লক্ষ টাকা এবং সমস্ত ধরনের গৃহস্থালির মূল্যবান সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও লোভ বাড়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। মানসীর কাছে একটি নতুন গাড়ির দাবি করা শুরু হয়। বাপের বাড়ি থেকে গাড়ি এনে দিতে না পারায় প্রতিনিয়ত তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ।


পণের দাবিতে চলা এই চরম নির্যাতনের কথা মানসী নিজের পরিবারকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন। মেয়ের সংসার বাঁচাতে মানসীর বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার লখনউতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বোঝানোর এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু তাতেও যে শ্বশুরপক্ষের মন গলেনি, তা প্রমাণ হলো গত শনিবারের একটি ফোনে। আচমকাই শ্বশুরবাড়ি থেকে মানসীর পরিবারকে জানানো হয় যে মানসী আত্মহত্যা করেছেন। তবে মানসীর বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের মেয়েকে পণের জন্য খুন করে অপরাধ ঢাকতেই দেহটি সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।


এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মানসীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি পণজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে। এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে স্বামী সাগর রাজপুত, শ্বশুর রাজেশ, দেওর অনু, দুই ননদ বরখা ও চাঁদনি এবং পিসি-শাশুড়ি আশার। পুলিশ মূল অভিযুক্ত স্বামী সাগর রাজপুতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। লক্ষাধিক মানুষের প্রিয় এক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন রহস্যজনক পরিণতিতে সমাজমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বিষয় : CRIMEUPDATE mansirajput influencerdeath lucknowcrime dowrydeath justiceformansi

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বিয়ের মাত্র ১ বছরেই শেষ লক্ষাধিক ফলোয়ার্সের প্রিয় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’! শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, খুন নাকি আত্মহত্যা?

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
লখনউ: সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায় তাঁর হাসিমুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে ঠিক কতটা ঝড় চলছে। লক্ষাধিক মানুষের ভালোবাসা পেলেও নিজের শ্বশুরবাড়িতেই চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছিল তাঁকে। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মানসীর ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমদ্ধেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তরুণীর পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পণের দাবিতে দিনের পর দিন অত্যাচারের পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।কানপুরের বাসিন্দা মানসীর সঙ্গে ২০২৪ সালে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল সাগর রাজপুত নামে এক যুবকের। সাগর নিজেও সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যাও কয়েক লক্ষ। বিয়ের সময় মানসীর পরিবার নগদ ৭ লক্ষ টাকা এবং সমস্ত ধরনের গৃহস্থালির মূল্যবান সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও লোভ বাড়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। মানসীর কাছে একটি নতুন গাড়ির দাবি করা শুরু হয়। বাপের বাড়ি থেকে গাড়ি এনে দিতে না পারায় প্রতিনিয়ত তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ।পণের দাবিতে চলা এই চরম নির্যাতনের কথা মানসী নিজের পরিবারকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন। মেয়ের সংসার বাঁচাতে মানসীর বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার লখনউতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বোঝানোর এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু তাতেও যে শ্বশুরপক্ষের মন গলেনি, তা প্রমাণ হলো গত শনিবারের একটি ফোনে। আচমকাই শ্বশুরবাড়ি থেকে মানসীর পরিবারকে জানানো হয় যে মানসী আত্মহত্যা করেছেন। তবে মানসীর বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের মেয়েকে পণের জন্য খুন করে অপরাধ ঢাকতেই দেহটি সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মানসীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি পণজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে। এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে স্বামী সাগর রাজপুত, শ্বশুর রাজেশ, দেওর অনু, দুই ননদ বরখা ও চাঁদনি এবং পিসি-শাশুড়ি আশার। পুলিশ মূল অভিযুক্ত স্বামী সাগর রাজপুতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। লক্ষাধিক মানুষের প্রিয় এক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন রহস্যজনক পরিণতিতে সমাজমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার