ঢাকা: ওপার বাংলায় এক নারকীয় ও অমানুষিক অপরাধের ঘটনায় চরম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল ওপার বাংলা। ঢাকার মিরপুরে সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ এবং তারপর গলা কেটে খুনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট থেকে সাতক্ষীরা— গণবিক্ষোভের তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এই গণরোষের মুখে পড়ে অবশেষে ঘরের কোণ থেকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হলেন দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কড়া পুলিশি পাহারায় তিন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে মিরপুরের পল্লবীতে নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করতে যান তিনি। কিন্তু সেখানেও ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখ থেকে রেহাই পেলেন না খোদ প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করে ধেয়ে গেল স্থানীয় মানুষের জুতো ও আকাশ কাঁপানো স্লোগান— ‘ভুয়া, ভুয়া!’ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে।
মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে পরিবারের সাথে থাকত স্থানীয় মডেল হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ওই মেধাবী ছাত্রী। গত মঙ্গলবার হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ না পেয়ে তার মা পাশের ফ্ল্যাটের গৃহকর্ত্রী স্বপ্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি দরজা খুলতে অস্বীকার করেন। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর শিশুটির গলাকাটা দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যায় গৃহকর্তা জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, সাত বছরের নিষ্পাপ শিশুটিকে খুন করার আগে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ধৃত স্বপ্না জেরায় স্বীকার করেছে যে তার স্বামী চরম বিকারগ্রস্ত এবং ধর্ষণের প্রমাণ লোপাট করতেই সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকার সমস্ত আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের কোনো আইনজীবী এই ঘৃণ্য পশুর পক্ষে মামলা লড়বেন না।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই যেভাবে মৌলবাদীদের দাপট বেড়েছে, তার পর থেকেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা একপ্রকার শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। রাস্তাঘাটে নারীরা কেন হিজাব বা বোরখা পরেননি, তা নিয়ে হেনস্থা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুধর্ষণের একের পর এক ঘটনা বাংলাদেশের বারুদে আগুন উসকে দিচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে মিরপুরের এই পৈশাচিক ঘটনা সাধারণ মানুষের সহ্যের বাঁধ ভেঙে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্ররা, অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাস্তায় রাতভর পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা প্ল্যাকার্ড হাতে শামিল হয়। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর অদ্ভুত নীরবতা এই গণআন্দোলনকে আরও বেশি অক্সিজেন জোগায়।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুরের ওপর দিয়ে গাজীপুর যাচ্ছেন খবর পেয়েই হাজার হাজার মানুষ রাস্তা অবরোধ করে দাবি তোলেন যে, নিহতের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে আসতেই হবে। বেগতিক বুঝে রাত ১০টা নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে সাথে নিয়ে নিহত ছাত্রীর বাড়িতে ঢোকেন তারেক রহমান। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন গম্ভীর মুখে গাড়িতে উঠতে যান, তখনই তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করা জনতা। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং তার নিজস্ব তহবিল থেকে নিহতের বড় বোনের পড়াশোনা ও ভরণপোষণের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন। ডিএনএ (DNA) টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাওয়া মাত্রই আগামী রবিবার বিকালের মধ্যে আদালতে এই মামলার কড়া চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সরকারের এই আশ্বাসেও ওপার বাংলার মানুষের ক্ষোভের আগুন কমেনি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন