কলকাতা: তিলজলা থেকে হাওড়া — বেআইনি ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে চলছে কড়া ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসাবে এবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল গড়িয়া শ্মশান এলাকায়। সেখানে একটি শৌচাগারের পাশে থাকা একাধিক ‘কিম্ভূত-কিমাকার’ ও নগ্ন মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল পুরনিগম। আর, এই অভিযান ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গড়িয়া শ্মশানের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি পাবলিক টয়লেট। তার গা ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছিল বেশ কয়েকটি শিশুর মূর্তি। যার মধ্যে একটি মূর্তি শৌচকর্ম করার ভঙ্গিমায় বসে রয়েছে, আবার অন্য একটি মূর্তিতে দেখা যাচ্ছে এক শিশু সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্নান করছে। শৌচাগারের পাশে এই ধরনের নগ্ন মূর্তি কেন রাখা হল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই শৌচাগারের ফলকলিপি অনুযায়ী, এটি তৈরি হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণায়’। আর, এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী বিদ্যুৎ ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বুধবার পুরনিগমের বুলডোজার এসে এক ঝটকায় সেই বিতর্কিত মূর্তিগুলি ভেঙে সাফ করে দেয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূল জমানার কড়া সমালোচনা করেছেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। মূর্তিগুলির ছবি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "তৃণমূলের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী-ই বা আশা করতে পারেন! ওদের কোনও রুচি বলে কিছু নেই। শৌচাগারের পাশে শিশুদের এই ধরনের নগ্ন মূর্তি অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয় দেয়। সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা খরচ করে ওরা এসব কুৎসিত কাজ করেছে। আমরা এবার পূর্ণাঙ্গ অডিট করব যে কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে।"
একই সুর শোনা গিয়েছে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের গলাতেও। তিনি সাফ জানান, "এটা আসলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুরুচিকর মানসিকতারই প্রমাণ।" তবে, এই চরম কটাক্ষের মুখেও তৃণমূল শিবিরের কারও কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
গড়িয়া এলাকায় পুরনিগমের এই বুলডোজার অ্যাকশন অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর ঠিক দু'দিন আগেই গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠের পাশে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া একটি ক্লক টাওয়ার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় কলকাতা পুরনিগম। ২০২৩ সালে তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিশেষ উদ্যোগে ও গায়ের জোরে মাঠের জায়গা দখল করে সেই ক্লক টাওয়ারটি তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমনকী, সেই টাওয়ারের সামনে প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবিও জ্বলজ্বল করছিল।
সেই সময় স্থানীয়দের তীব্র আপত্তিতে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। আদালত বেআইনি এই নির্মাণ ভেঙে ফেলার স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও, তৎকালীন শাসকদলের ক্ষমতা ও কাউন্সিলরের উস্কানিতে কিছু মহিলাকে সামনে রেখে আন্দোলন করিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সেই বেআইনি ক্লক টাওয়ার ও শৌচাগারের বিতর্কিত নগ্ন মূর্তি — সবটাই বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল পুরনিগম।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন