কলকাতা: তপসিয়ার চামড়া কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। কারখানার মালিক জাফর নিশারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হওয়া এই ভয়াবহ আগুনে ঝলসে ইতিপূর্বেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিনজন।
মঙ্গলবার পৌনে ২টো নাগাদ তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের একটি বহুতলের দোতলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কিছু শ্রমিক। স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ দমকলে খবর দিলে একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে উদ্ধারকার্যে দমকলকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। আটকে পড়া পাঁচ-ছ’জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে তিনি হাসপাতালেও যান আহতদের খবর নিতে। সেখান থেকেই পূর্বতন রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, যে বহুতলটিতে আগুন লেগেছে সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কারখানার অগ্নিনির্বাপক সংক্রান্ত কোনও অনুমতিপত্র ছিল না।
সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ঘুষের বিনিময়ে এই ধরনের বিপজ্জনক বিল্ডিং তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "তাঁর দফতরের অনুমতি ছাড়া কি এভাবে ব্যবসা চালানো সম্ভব? তিনি কি কিছুই জানতেন না?"
তপসিয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী এবং বেআইনিভাবে কারখানাটি কীভাবে চলছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মালিক গ্রেফতার হলেও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন