Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বঙ্গভঙ্গ না গোর্খা আবেগ? কার্শিয়াং থেকে শাহের বড় ঘোষণা, ৬ মে-র ‘ডেডলাইন’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
বঙ্গভঙ্গ না গোর্খা আবেগ? কার্শিয়াং থেকে শাহের বড় ঘোষণা, ৬ মে-র ‘ডেডলাইন’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!
FILE IMAGE

কার্শিয়াং: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে তপ্ত পাহাড়। আর, সেই উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কার্শিয়াং বিধানসভাকেন্দ্রের অন্তর্গত সুকনায় দলীয় প্রার্থী সোনম লামার সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর আশ্বাস দিলেন তিনি। শাহের এই মন্তব্য কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঘুরপথে ফের বঙ্গভঙ্গের ইস্যুকেই উস্কে দিতে চাইছে বিজেপি?


এদিন জনসভা থেকে শাহ সরাসরি তারিখ ঘোষণা করেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের পর, আগামী ৬ মে আমরা এমন সমাধান বের করব যে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও জানান যে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। ২০১৯ সাল থেকেই বিজেপি গোর্খাদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে, এবারের ‘৬ মে’-র ডেডলাইন পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে তিনবার বৈঠক ডাকলেও রাজ্য সরকার কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি। তিনি বলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সহযোগিতা করেননি বলেই আমরা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিয়োগ করেছি। তিনি যে রিপোর্ট দেবেন, বিজেপি সরকার গড়লেই সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে যা গোর্খারা এত দিন চেয়ে এসেছেন।”


গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবি পৃথক ‘গোর্খাল্যান্ড’। যদিও শাহ সরাসরি সেই নাম উচ্চারণ করেননি, কিন্তু “গোর্খারা এতদিন যা চেয়ে এসেছেন” এবং “মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটবে” - এই শব্দবন্ধগুলি পৃথক রাজ্যের উস্কানি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। উল্লেখ্য, পাহাড়ের জিটিএ এলাকায় রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্রের এই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়ে আগেই কড়া আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত’ বলে সরব হয়েছিল তৃণমূল।


পাশাপাশি, ভোটারতালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং গোর্খাদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শাহ। তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ভোটারতালিকায় নাম ফেরানো এবং ৪ মে-র পর সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


এখন দেখার, শেষবেলার এই ‘শাহ-দাওয়াই’ পাহাড়ে পদ্ম ফোটানোর পথ কতটা প্রশস্ত করে, নাকি বঙ্গভঙ্গের আশঙ্কায় সমতলের জনমত বিজেপির প্রতিকূলে যায়।

বিষয় : Mamata Banerjee West Bengal Election 2026 AMIT SHAH gorkhalandcontroversy kurseong

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বঙ্গভঙ্গ না গোর্খা আবেগ? কার্শিয়াং থেকে শাহের বড় ঘোষণা, ৬ মে-র ‘ডেডলাইন’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কার্শিয়াং: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে তপ্ত পাহাড়। আর, সেই উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কার্শিয়াং বিধানসভাকেন্দ্রের অন্তর্গত সুকনায় দলীয় প্রার্থী সোনম লামার সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর আশ্বাস দিলেন তিনি। শাহের এই মন্তব্য কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঘুরপথে ফের বঙ্গভঙ্গের ইস্যুকেই উস্কে দিতে চাইছে বিজেপি?এদিন জনসভা থেকে শাহ সরাসরি তারিখ ঘোষণা করেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের পর, আগামী ৬ মে আমরা এমন সমাধান বের করব যে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও জানান যে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। ২০১৯ সাল থেকেই বিজেপি গোর্খাদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে, এবারের ‘৬ মে’-র ডেডলাইন পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে তিনবার বৈঠক ডাকলেও রাজ্য সরকার কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি। তিনি বলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সহযোগিতা করেননি বলেই আমরা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিয়োগ করেছি। তিনি যে রিপোর্ট দেবেন, বিজেপি সরকার গড়লেই সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে যা গোর্খারা এত দিন চেয়ে এসেছেন।”গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবি পৃথক ‘গোর্খাল্যান্ড’। যদিও শাহ সরাসরি সেই নাম উচ্চারণ করেননি, কিন্তু “গোর্খারা এতদিন যা চেয়ে এসেছেন” এবং “মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটবে” - এই শব্দবন্ধগুলি পৃথক রাজ্যের উস্কানি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। উল্লেখ্য, পাহাড়ের জিটিএ এলাকায় রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্রের এই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়ে আগেই কড়া আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত’ বলে সরব হয়েছিল তৃণমূল।পাশাপাশি, ভোটারতালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং গোর্খাদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শাহ। তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ভোটারতালিকায় নাম ফেরানো এবং ৪ মে-র পর সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।এখন দেখার, শেষবেলার এই ‘শাহ-দাওয়াই’ পাহাড়ে পদ্ম ফোটানোর পথ কতটা প্রশস্ত করে, নাকি বঙ্গভঙ্গের আশঙ্কায় সমতলের জনমত বিজেপির প্রতিকূলে যায়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার