কলকাতা: ভোটের বাজারে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ১৯ মিনিটের সেই ‘স্টিং অপারেশন’ কি আদতে পরিকল্পিত চক্রান্ত? তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশ করা বিতর্কিত ভিডিয়ো নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা করে তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা হয়েছে!
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করে, ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁত করছেন। সেই ভিডিয়োয় শোনা যায়, হুমায়ুন বিজেপির কাছে এক হাজার কোটি টাকা দাবি করছেন! এমনকী, তৎক্ষণাৎ ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য চাপও দিচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিচ্ছেন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘মিম’ (AIMIM) সম্পর্কেও বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে।
তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। হাইকোর্টে তাঁর আবেদন, কে বা কারা এই ভুয়ো ভিডিয়ো তৈরি করে বাজারে ছড়িয়েছে, তা খুঁজে বের করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত। এদিন তিনি বলেন, “যাঁরা ষড়যন্ত্র করেছেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বুঝিয়ে দেব পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলাফল কী হতে পারে! এর নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তৃণমূলের এই ‘স্টিং অপারেশন’ প্রকাশের পরই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন হুমায়ুন। বাংলার ভোটে তাঁর দলের সঙ্গে মিমের (AIMIM) যে জোট হওয়ার কথা ছিল, তা এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বাতিল করে দেন ওয়েইসি। ঘোষণা করা হয়, মিম একাই লড়বে। ফলে রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে পড়েই এবার আইনি পথে নামলেন হুমায়ুন।
আগামী ২২ এপ্রিল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, হাইকোর্টের নির্দেশে এই ১৯ মিনিটের ভিডিয়োর রহস্য উদঘাটিত হয় কিনা। প্রযুক্তির যুগে এই ‘স্টিং অপারেশন’ কি সত্যিই রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটাবে নাকি এআই-এর জালিয়াতি প্রমাণিত হবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন