নয়াদিল্লি: বুধবার সকালে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে কার্যত তুলকালাম কাণ্ড! তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠক ঘিরে তৈরি হল চরম উত্তেজনা। বৈঠক শুরুর মাত্র ৭ মিনিটের মাথাতেই নাকি তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন জ্ঞানেশ কুমার! এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে 'অশালীনতা'র অভিযোগ এনেছে কমিশনও!
এদিন সকালে ভোটারতালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে কমিশনে গিয়েছিল তৃণমূলের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন - ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে এবং মেনকা গুরুস্বামী।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বলেন, "আমরা সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম (বিরোধী) দল। অথচ, আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। বৈঠকের মাত্র ৭ মিনিট হয়েছে, তখনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের অপমান করে বলেন - গেট লস্ট!"
তৃণমূলের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনা করতে চাইলেও কমিশন তাঁদের কথা শুনতেই চায়নি। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকেও দ্রুত এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন এবং চিৎকার করছিলেন। যে কারণে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের শালীনতা বজায় রাখতে বারবার অনুরোধ করা হয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত এবং ছাপ্পা-মুক্ত।
ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই শাসক-বিরোধী তরজা চলছিল। কিন্তু, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তৃণমূল প্রতিনিধিদের এই 'মুখোমুখি সংঘাত' বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ডেরেকদের অভিযোগ বনাম কমিশনের পাল্টা বিবৃতির লড়াই এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন